দিল্লির নির্বাচন হারার পর, বিহার এবং বাংলায় সমস্যার মুখে পড়তে পারে বিজেপি:

দিল্লিতে হারের পরে বিজেপি জেডি ইউ এর সাথে বিহারে সমঝোতার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও দলটির দাপুটে নেতার অভাব শুরু হওয়াতে, তাই এখন থেকেই পার্টির উপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করছে।

0
দিল্লির নির্বাচন হারার পর, বিহার এবং বাংলায় সমস্যার মুখে পড়তে পারে বিজেপি:
515 Views

মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের পরে, দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে বিজেপির সমস্যা বাড়তে চলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিহার এবং পরের বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বিজেপি। দিল্লিতে হারের পরে বিজেপি জেডি ইউ এর সাথে বিহারে সমঝোতার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও দলটির দাপুটে নেতার অভাব শুরু হওয়াতে, তাই এখন থেকেই পার্টির উপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করছে।

  • বিহারে, সম্ভবত এ বছরের অক্টোবরে এবং পরের বছরের গোড়ার দিকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিহারে, বিজেপির সহযোগী জেডি ইউ এর সমান আসন পাওয়ার অনুমান করা হচ্ছে । তবে সর্বশেষ ফলাফল দলকে বিভ্রান্ত করতে বাধ্য করছে । একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, “রাজ্যে দলটির শক্তিশালী নেতা না থাকায় বিজেপি চাপে থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের পরে জেডি ইউ এর সাথে খুব বেশি আলোচনার মতো পরিস্থিতিতে নেই । আবার , জেডি ইউ নেতারা এই নির্বাচনের আগেই বিজেপির চেয়ে বেশি আসন পাবে বলে মনে করছে”।

  • দিল্লিতে ভোটগ্রহণ অব্যাহত, দুই লাখের ও বেশি মানুষ এই প্রথমবার ভোট দেবেন :
  • ভোটদানের মধ্যে টুইটারে কেজরিওয়াল ও স্মৃতি ইরানি সংঘর্ষ

    অন্যদিকে, ‘ ব্র্যান্ড মোদী’ জাদু লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতে সাহায্য করেছিল যা রাজনীতিবিদদের অবাক করেছিল। তবে, এখন রাজ্যের স্থানীয় শক্তিশালী নেতার অভাব দলকে তাড়া করছে । সূত্র বলছে, “দলের সমস্যা হল রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো তাবড় কোনো স্থানীয় নেতা নেই। সিএএর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু শ্রেণির পক্ষের পক্ষে একত্রিত হয়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান আগের থেকে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে । তার পর আবার তৃণমূলের যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল সেটাও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানারজী প্রায় মিটিয়ে নিয়েছেন। রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ২৮ শতাংশ রয়েছে”।

দিল্লির নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে অনেক বিজেপি মিত্র জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা অস্বস্তিতে আছেন এমনটাই মনে করা হচ্ছে । মনে রাখবেন যে জেডি (ইউ) সভাপতি নীতীশ কুমার দিল্লির সমাবেশে অংশ নিয়ে বিজেপি বিতর্কিত বিষয় উত্থাপন এড়িয়ে গিয়েছিলেন । তবে বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন বিশ্বাস করেন, যে “দিল্লির নির্বাচনের ফলাফল বিহারকে প্রভাবিত করবে না। জেডি ইউ এর সাথে বিজেপির সম্পর্ক মধুময় । নীতীশ কুমারই বিহারের এনডিএ-র নেতা। আমরা বিহারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও জিতব।জে ডি ইউ এর সাথে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না”।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এনআরসি, জেডিইউ এনপিআরে ও আকালি দল বিরোধিতা করেছে।আকালি দল সিএএ-তেও বিরোধিতা করেছে । দিল্লির ফলাফলের পরে, বিজেপি এর সাথে থাকলে দলগুলির উপর চাপ বাড়বে।ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্রের ফলাফলের পরে বিজেপি মিত্ররা এনডিএর কার্যকলাপে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।



২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ আবার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে, তবে রাজ্যগুলিতে একের পর এক পরাজয় থামছে না।মার্চ ২০১৮ এ, এনডিএ সরকারের নেতৃত্বে ২১ রাজ্যে রাজত্ব চলছিল, যেটা এই মুহূর্তে কমে ১৬তে নেমেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি কেবলমাত্র শুধু হরিয়ানায় সরকার গঠন করতে পারে।