লকডাউনের জেরে রোজগার হারাতে বসেছেন রাজ্য শ্রম দফতরের প্রায় ছ`হাজার স্বনিযুক্ত শ্রম সংগঠক কর্মী, উদ্বেগে রয়েছেন স্কুল বাস মালিকেরাও

আনলক-২ পর্বে বিভিন্ন দফতরে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, খুলে গিয়েছে বহু পরিষেবা। তা সত্ত্বেও রোজগার হারাতে বসেছেন রাজ্য শ্রম দফতরের প্রায় ছ`হাজার স্বনিযুক্ত শ্রম সংগঠক কর্মী।

0
লকডাউনের জেরে রোজগার হারাতে বসেছেন রাজ্য শ্রম দফতরের প্রায় ছ`হাজার স্বনিযুক্ত শ্রম সংগঠক কর্মী, উদ্বেগে রয়েছেন স্কুল বাস মালিকেরাও. THE POLICY TIMES

আনলক-২ পর্বে বিভিন্ন দফতরে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, খুলে গিয়েছে বহু পরিষেবা। তা সত্ত্বেও রোজগার হারাতে বসেছেন রাজ্য শ্রম দফতরের প্রায় ছ`হাজার স্বনিযুক্ত শ্রম সংগঠক কর্মী। আগে কমিশন ভিত্তিক রোজগার থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকদের সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়, এর হিসেব রাখার জন্য প্রত্যেককে একটি করে খাতা দেওয়া হয়। ওই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, পেনশন, দুর্ঘটনায় মুত্যুকালীন অনুদান এমনকি সন্তানদের জন্য শিক্ষামূলক বৃত্তিও দেওয়া হত। এই সুবিধার বিনিময়ে সরকার তাঁদের থেকে মাসিক ২৫ টাকা করে নেওয়া হয়। এর হিসেব রাখার জন্যই খাতা পিছু মাসিক ২ টাকা কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন কর্পোরেশন, পুরসভা এবং ব্লকে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। যাঁরা ওই ২৫ টাকার মধ্যে ২ টাকা কমিশন পান সরকারের থেকে। তাঁরাই হলেন কাজ হারাতে বসা এই স্ব-নিযুক্ত শ্রম সংগঠক।

এ বিষয়ে তাদের তরফে মহম্মদ আজিবার বিশ্বাস জানান, ‘‘লকডাউনের মধ্যে না খেয়ে ভীষণ কষ্টে দিন কেটেছে। রাজ্যের ছ’হাজার কর্মীর সবারই এমন হাল। আমরা রাজ্য সরকারকে সমস্যার কথা জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী যদি কোনও সুরাহা করেন, তবেই আমরা বাঁচব।’’

রাজ্য শ্রম দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘অসংগঠিত শ্রমিকদের স্বার্থে, তাঁদের সুবিধার জন্যই ওই প্রকল্পে মাসিক টাকা নেওয়া বন্ধ করে সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই যাঁরা খাতা দেখভাল করতেন তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’’


এদিকে, স্কুল বন্ধ থাকায় গত এপ্রিল মাস থেকে কোনও আয় নেই কলকাতা এবং সংলগ্ন তিন জেলার প্রায় তিন হাজার বৈধ স্কুলগাড়ি এবং স্কুলবাস মালিকের। এই অবস্থায় আগামী অগস্ট পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকার নির্দেশিকা জারি হওয়ায় জীবিকা নিয়ে  বেশ উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা।

বিশেষ অনুমতি ছাড়া কনট্র্যাক্টে থাকা স্কুল গাড়ি অন্যত্র ভাড়া খাটানো যায় না বলে অনেকেই বিকল্প আয়ের সংস্থান করতে পারছেন না। বাস মালিকদের অভিযোগ, আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও স্কুলগাড়ির চালক এবং সহকারীর বেতন ছাড়া কর এবং বিমার টাকাও তাঁদের নিয়মিত মিটিয়ে যেতে হচ্ছে। বেশ কিছু স্কুলবাসের ক্ষেত্রে মহিলা অ্যাটেনডেন্ট রাখাও বাধ্যতামূলক, ফলে তাঁদেরও বেতন মেটাতে হচ্ছে স্কুলবাস মালিকদেরই। এর ওপর আবার যাঁরা সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিস্তির টাকা নিয়মিত মেটানোর চাপও রয়েছে। সরকারি ঘোষণা সত্ত্বেও বহু আর্থিক সংস্থা কিস্তি মকুব না করায় চাপ আরও বেড়েছে ওই সব স্কুলবাস এবং স্কুলগাড়ির মালিকদের।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লকডাউন পর্বের ভাড়া আদায় করতে গিয়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।  স্কুল বন্ধ থাকায় অভিভাবকেরা ন্যুনতম ৫০ শতাংশ ভাড়াও মেটাতে চাইছেন না বলে অভিযোগ পুলকার সংগঠনগুলির। পাশাপাশি, স্কুলের সঙ্গে চুক্তি ভিত্তিক বন্দোবস্ত থাকা বাসমালিকদেরও অনেক ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ শতাংশ ভাড়ার টাকাও মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘‘যে ধরনের অনটনের মধ্যে দিয়ে স্কুলগাড়ির মালিকদের যেতে হচ্ছে তাতে স্কুল খোলার পরে কত জন গাড়ি রাস্তায় নামানোর অবস্থায় থাকবেন তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।’’

বালি পুলকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মদন জানা বলেন, ‘‘অভিভাবকদের কাছে ভাড়ার কিছু অংশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কোনও ফল হয়নি। অন্যত্র গাড়ি ভাড়া খাটানোর উপায় নেই। তাই গাড়ি চালিয়ে যাঁদের সংসার চলে, তাঁরা সঙ্কটে পড়েছেন।’’

স্কুলবাসের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল কনট্র্যাক্ট ক্যারেজ ওনার্স অ্যান্ড অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের সংগঠনের অধীনে থাকা হাতে গোনা কয়েকটি বাস পুরসভার জরুরি বিভাগের কর্মীদের হয়ে কাজ করলেও বেশির ভাগ  বসে রয়েছে। খরচ চালাতে তাই বিকল্প আয়ের খোঁজ করছেন বেশির ভাগ স্কুল বাস মালিক।

সূত্রআনন্দবাজার

Summary
Article Name
লকডাউনের জেরে রোজগার হারাতে বসেছেন রাজ্য শ্রম দফতরের প্রায় ছ`হাজার স্বনিযুক্ত শ্রম সংগঠক কর্মী, উদ্বেগে রয়েছেন স্কুল বাস মালিকেরাও
Description
আনলক-২ পর্বে বিভিন্ন দফতরে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, খুলে গিয়েছে বহু পরিষেবা। তা সত্ত্বেও রোজগার হারাতে বসেছেন রাজ্য শ্রম দফতরের প্রায় ছ`হাজার স্বনিযুক্ত শ্রম সংগঠক কর্মী।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo