করোনাভাইরাস: ছোট্ট ভুল বড়ো ক্ষতি ভারত ও প্রতিবেশী বাংলাদেশ :

আজকে গোটা পৃথিবীতে লোক ডাউন, কিন্তু জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে ভারত বাংলাদেশও পড়ে যার কারণেই মানুষ অসুস্থতায় নয় পেট নিয়ে চিন্তিত.....

0
করোনাভাইরাস: ছোট্ট ভুল বড়ো ক্ষতি ভারত ও প্রতিবেশী বাংলাদেশ :
371 Views

ভারতে প্রথম করোনা সংক্রমণ রোগীটি ৫-ঐ জানুয়ারী ২০২০ তে সনাক্ত করা হয়ে। কিন্তু সরকার তেমন কোনো বেবস্থা না নিলেও সচেতনতার কথা জানান। বর্তমানে সংক্রমণের সংখ্যা ৬,২৩৭ পরিস্থিতি বেহাল হবেনা বলে কোনো সন্দেহ নেই, সবাই একটা আতঙ্কে আছে। 

বাংলাদেশে প্রায় এক মাস হয়ে হলো, আর আজকের সংখ্যা অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট সংখ্যা ৩৩০। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ২০১৯-২০ অনুযায়ী ১৭০ মিলিয়ন। এমতবস্থায় তারাও সজাগ কিন্তু বেবস্থা পরিকল্পনা নিয়ে হতাশায়। 

আজকে গোটা পৃথিবীতে লকডাউন, কিন্তু জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে ভারত বাংলাদেশও পড়ে যার কারণেই মানুষ অসুস্থতায় নয় পেট নিয়ে চিন্তিত। অনেকের মতামত “সবলের আক্রমণ দুর্বলের প্রতি থাকবেই, কিন্তু বড়োলোকের এই রোগ গরিবের পেটে হানা দিচ্ছে”। সংখ্যানুজাই যদি দেখা যায় যে কারা বেশি আক্রান্ত সেক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ নাই বললেই চলে। “কিন্তু মহামারী কারো জন্যে আসেনা যখন আসে তখন সুন্নাতকেও ধূলিস্যাৎ করেযায়”।  

স্বাস্থ্য সংস্থা :

ভারতে এ পর্যুন্ত ৫২ টি করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। বিশ্বসাস্থ সংস্থা জানিয়েছে পরীক্ষার মাত্রা যত বাড়ানো সম্ভব ততটাই যেকোনো দেশের জন্য উপকার। আমরা শুধুই মহামারী বা সংকটের মধ্যে নেই, আমাদের চোখের সামনে আমরা দেখছি চীন, ইতালি, ইরাক, আরো অন্যান্য দেশ আমাদের সামনে জ্বলন্ত উদাহরণ হিসাবে রয়েছে। আমরা কল্পনাও করতে পারিনা কি হতে পারে, কিন্তু সারা বিশ্বের সাস্থ কেন্দ্র আপ্পায়ন চেষ্টা চালাচ্ছে।  

বাংলাদেশ সহ একমাসের পরিস্থিতি কীভাবে বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা?

প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার হার যত বাড়ছে, রোগীর সংখ্যাও অনেকটা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুন্সী সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন “পশ্চিমা দেশ নয়, আমরা ভারত বা ব্রাজিলের সঙ্গে যদি তুলনা করি, তখন দেখা গেছে এরকম একটা পর্যায়ে এসে তাদের রোগীর সংখ্যা বহু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি শোকাহত হয়ে জানান আমাদেরও হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেরকম একটা চিত্র দেখতে হবে।”

“এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো ভারত হোক আর বাংলাদেশ হোক এরা কি চীন, ইতালি,আমেরিকার মতো পরিস্থিতি সামলাতে পারবে? সরকার হয়তো পদক্ষেপ নেবেন ভাবছেন কিন্তু পরে গিয়ে এটাও হয়তো ভাবতে হতে পারে ভাবনাটা দেরি হয়েগেলোনা নাতো ? ভারতের থেকে বাংলাদেশের সংখ্যা তেমন কিছু না, কিন্তু তাদের উক্তি যে পেশেন্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য আমাদের স্বাস্থ্য খাত কতটা প্রস্তুত হয়েছে? আমাদের কি যথেষ্ট আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, চিকিৎসক প্রস্তুত রয়েছে? বাকি দেশের মতো রোগী সামলানোর ব্যাপারটি আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।‘’

দেশগুলোতে পরীক্ষার মাত্রা যতই বাড়ছে সংখ্যা ততই বাড়ছে। আজকের দিনে ভারত বাংলাদেশ যদি পরীক্ষার মাত্রা বাড়ায় তবে আতঙ্কিত এক সংখ্যা সামনে এসে দাঁড়াবে। বর্তমানের যে চিত্র আমাদের সামনে তা প্রাকৃতিক কি না বলা যাবেনা। আমরা সবেমাত্র পরীক্ষা কেন্দ্রের হার বাড়িয়েছি, কিন্তু যে ট্রেন্ড সামনে ভাসতে দেখা যাচ্ছে তাতে পরীক্ষাগারের সাথে পরীক্ষণের সংখ্যা বাড়লে আসল চিত্রটা বোঝা যাবে। 

পুরো বিশ্বের লোকের কাছে সরকার ও সাস্থ কেন্দ্রের একটাই দাবি যে এই মহামারী রোগের বিরোধিতার জন্যে লোক ডাউনের উপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিকভাবে আমরা যদি এটি পালন করি তবে সাস্থ খাতে চাপ কমবে। যার কারণে সরকার ত্রাণ ও অনেকের থাকার ব্যবস্থাও করছে। আইন শৃঙ্খলা আর মানুষের চলাফেরায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের বেবস্থা থাকা দরকার। কিন্তু এখানে প্রশ্ন উঠে আসছে “খাদ্যের সংকট আগেথেকে ভারতেও ছিল বাংলাদেশেও ছিল সরকার তখন সামাল দিতে পারেনি এখন কিকরে সামলাবে”? 

বাংলাদেশের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলছেন, “যেভাবে প্রস্তুতি হওয়া উচিত ছিল, সেটা হয়নি। কোয়ারেন্টিনের কথাই যদি বলেন, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এমনকি অনেকের নাম ঠিকানাও ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি। প্রথমেই আমরা সেই সুযোগটা মিস করেছি।”

ভারত বাংলাদেশর এই টেস্ট করার সাফল্য সক্ষমতা থাকার পরও এতোদিন বেহাল অবস্থায় এসে আজ ইতস্তত অবস্থায় স্বাস্থকেন্দ্রের দিকে নজর দিয়েছে। আমাদের কাছে এই বেবস্থাটা যদি করা থাকতো, তাহলে পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে ধরা যেতো, এমতবস্থায় সরকার কি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে? 

“এ পর্যুন্ত যাদেরকে সনাক্ত করা হয়েছে তাদের কন্টাক্ট ট্রেসিংও ঠিকভাবে হয়নি, তারা কাদের সাথে মিশেছেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, এইসব বিশ্লেষণ করা জরুরি ছিল। তাহলে আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী একধাপ এগিয়ে থাকতাম, জনপ্রতিনিধি- সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে এটা করা উচিত ছিল।”

যারা শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের ঠিকভাবে চিকিৎসা করা, সংক্রমিতদের সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয়টি জরুরি। যারা হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন, নমুনা সংগ্রহ করছেন, তাদের প্রশিক্ষণ সুরক্ষার ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে সাস্থকর্মী পাশাপাশি ডাক্তারও সংক্রমিত হতে পারে। আর যদি এমনটা হয়ে তবে সাস্থ ব্যবস্থার ওপর হুমকি তৈরি করবে।

“এখনো এক্ষেত্রে একটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এখন যে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তারা কোথায় যাবে, কীভাবে যাবে, তা নিয়ে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে।”

রোগীর সংখ্যা যতই বাড়বে আতঙ্ক ততই পরিবেশ বেষ্টিত হবে। 

এই ঘোষণা আসার পর বাংলাদেশে মাস্ক, স্যানিটাইজারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত দাম রাখার কারণে বেশ কয়েকটি ফার্মেসি সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই দিন করোনাভাইরাসকে মহামারি বলে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ হলে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয় দেশ বিদেশের প্রত্যেক সংস্থার পক্ষ থেকে। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, বারবার চেষ্টা করেও তারা এসব হটলাইনে সংযোগ স্থাপন করতে পারেননি।

গাণিতিক সংখ্যার কারণ, কম পরীক্ষা :

নমুনা পরীক্ষার হার এতো কম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা অনেক ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।

আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তারা পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে ‘পরীক্ষা, পরীক্ষা এবং পরীক্ষার’ ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের আইইডিসিআর শুধুমাত্র তাদের পরীক্ষা করেছে, যারা বিদেশ থেকে এসেছেন একই পরিস্থিতি ভারতেও। এই পর্যায় আমরা সন্দেহভাজন ভাবে পরীক্ষা করতে পারিনা, যত দ্রুত সম্ভম প্রত্যেক মানুষের পরীক্ষার প্রয়োজন।

সাস্থ কেন্দ্র আছে কিন্তু বেবস্থা নেই :

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ঢাকায় পাঁচটি হাসপাতাল প্রস্তুত করার ঘোষণা দেয়া হয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে ভারতের হাসপাতালের ব্যবস্থাও করুন। অনেক হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা জানালেন যে আমাদের সাময়িক জিনিস পত্র নেই আমরা রোগী দেখতে অক্ষম। আর এরইমাঝে কিছু  নগড়া রাজনীতি সামনে আসে, যেটা অপ্রকাশ্য। 

কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, এসব হাসপাতালে প্রস্তুতির এখনো অনেক বাকি। অনেক হাসপাতাল রোগী ভর্তি করতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগবে বলে জানায়।

বহু সাধারণ রোগী অভিযোগ করছেন, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি বা নিউমোনিয়ার মতো রোগে তারা সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। করোনাভাইরাস সন্দেহে একের পর এক হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগও ওঠে।

স্কুল কলেজ বন্ধ

কেন্দ্র সরকার নরেন্দ্র মোদী  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলো, ২২ মার্চ থেকে যখন পুরোপুরি লোক ডাউন ঘোষণা হয়ে তারপর থেকে এখন পর্যুন্ত কোনো সঠিক সময়ে দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়, অনুমান করা হচ্ছে জুন অথবা জুলাইতে সচল হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। আর এই পরিস্থিতি কবলে আসবে বলে ১৫ মার্চ ট্রেন চালু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু পুনরায় আবার সমস্ত যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১৬ই মার্চ বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, ১৮ই মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সব স্কুল ও কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ১৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর ছুটির সঙ্গে মিলে কার্যত পরদিন থেকেই ছুটি শুরু হয়। কিন্ত নতুন করে এখনো কোনো সময়কে তালিকা ভুক্ত করা হয়নি শিক্ষকঃ প্রতিষ্ঠান গুলির জন্যে। 

১৪ই মার্চ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এক ঘোষণায় জানান, ইউরোপ থেকে ফ্লাইট আসা বন্ধের পাশাপাশি যেসব দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে, তাদের জন্য বাংলাদেশ ভিসা দেবে না। সেই সঙ্গে সব দেশের নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসাও বন্ধ থাকবে। সম্মত ভারত সরকার তাই।


 

Summary
Article Name
করোনাভাইরাস: ছোট্ট ভুল বড়ো ক্ষতি ভারত ও প্রতিবেশী বাংলাদেশ :
Description
আজকে গোটা পৃথিবীতে লকডাউন, কিন্তু জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে ভারত বাংলাদেশও পড়ে যার কারণেই মানুষ অসুস্থতায় নয় পেট নিয়ে চিন্তিত.....
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo