সত্যি পরিস্থিতিকে হারাতে সবার আগে দিনমজুর; আমরা যেযার গৃহে, একটি হৃদয়ে ছোঁয়া ঘটনা আমার সাথে:

কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি, দরজার হাতল, প্যাকেট এমনকি শাকসব্জিকে স্যানিটাইজিং করছি কিন্তু অপরদিকে এই লোকেরা অতি নিকৃষ্ট অবস্থার মধ্যে রয়েছে, কারও মুখোশ রয়েছে, কারোর নেই অনেকে জানেইনা কি হচ্ছে আমাদের সাথে.....

0
201 Views

আনন্দদায়ক, সুখী বা ইতিবাচক পাঠ নয়। আপনারা অনেকে এটি পড়তে সত্যিই অস্বস্তি বোধ করবেন। দরিদ্রতমদের সাথে দেশে কী চলছে তা বোঝা খুব কঠিন নয় তবে কেবল আপনি যখন স্থিরভাবে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হবেন তখনই আপনি বাস্তবটা অনুভব করবেন।

একটা ছোট মেয়ে আমার মেয়ে রেহামের সমবয়সী, তিন দিন খালি পায়ে মাথায় একটা পুঁটলি ধরে, ক্ষুধার্ত, ঘামে এবং ধুলায় মাখা  ঠোঁটে আপনাকে দেখেই ক্লান্ত কণ্ঠে বললো, “বাহুত ভুক্ক লাগা হাই, আঙ্কেল। ” – এই কথাটি শুনে আপনার আত্মার ভিতর পর্যুন্ত কাতর হয়েছিল।

  • – এই লোকেরা কেন হাজার হাজার কিলোমিটার পায়ে হেটে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে ভ্রমণ শুরু করেছে, এই চরম হতাশার ডাকটি ভেতরে ভেতরে খুবই বিচলিত করছিলো তা জানতে রাস্তায় কয়েকটি লোকের সাথে কথা বলা অনিবার্য।
  • – কেন তারা এই বিশ্বাসঘাতক ভ্রমণের সাথে নিজেকে বেকুল কষ্টে ক্লান্ত করবে?
  • – মহামারী চলাকালীন তাদের এবং তাদের পরিবারের জীবনকে মারাত্মক ভাবে বিপদগ্রস্ত হতে হয়েছে কেন?
  • – এক নয়, শত নয়, সারা দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ; কেন এই বোকামি পদক্ষেপ নিয়েছে?

আমরা আমাদের ঘর থেকে বাইরে বেরতে ভয় পাচ্ছি, আমরা আমাদের বাচ্চাদের সুরক্ষা দিচ্ছি, প্রতি নিয়ত ছেলে মেয়েদের হাত ধুতে বলছি নিজেরাই স্যানিটাইজ করে দিচ্ছি, কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি, দরজার হাতল, প্যাকেট এমনকি শাকসব্জিকে স্যানিটাইজিং করছি কিন্তু অপরদিকে এই লোকেরা অতি নিকৃষ্ট অবস্থার মধ্যে রয়েছে, কারও মুখোশ রয়েছে, কারোর নেই অনেকে জানেইনা কি হচ্ছে আমাদের সাথে।অন্যরা কেবল একটি নোংরা কাপড় পরেই দিনের পর দিন খালি পায় হাজারো মাইল হেটে চলেছে।কারওর কোনও সুরক্ষা নেই, এবং দূরত্ব ভুলে গিয়ে তারা ট্রাকে পশু বাঁধার মতো নিজেকে বেঁধেনিয়ে গন্তব্য স্থলে ছুটেছে। তারা বাধ্য পরিস্থিতিকে হারাতে, নিজের ছোট ছোট সন্তানের কোমল পাঁ ফেটে ঘা হয়েগেছে কিন্তু তারা থামেনি। এখানে, লোকেরা তাদের বাচ্চাদের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত এবং ভাবছে যে অনলাইন শিক্ষা তাদের পক্ষে ভাল কিনা, অন্যদিকে মিলিয়ন মিলিয়ন ছেলে মেয়ে জানেন না যে তারা কখন কোন কি খাবে বা কোথায় একটু শুদ্ধ জল পাবে।

আপনি জানেন, সহানুভূতির জন্য বেশি কিছু লাগেনা তবে আজ এই পর্যায় সমস্যা রয়েছে – যাই হোক না কেন তাদের রাজনীতিকে পাশে রাখতে হবে। এবার আপনি বিবেচনা করুন আজকের দিনেও গরিবের পেটে লাথি মেরে রাজনীতি করা কি দেশের জন্যে স্বাস্থকর ?  কেবল তখনই লজ্জা লাগে, অপরাধবোধ হয়ে, ক্রোধ এবং হতাশাগ্রস্থত অবস্থায় এই মানুষগুলোকে দেখে। আপনি সরকার লক্ষ লক্ষ জীবনকে কিভাবে এতো কঠোর পরিস্থিতে ধাক্কা দিতে পারেন এগুলো একটু গভীর ভাবে ভাবলে সত্যের ছবিটা দেখতে পাবেন। 


দেশজুড়ে অভিবাসী শ্রমিক আন্দোলন বিশাল অনুপাতের ট্র্যাজেডি। লোকেরা চলে যাচ্ছে কারণ এটি তাদের পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং সরকারের পক্ষে এটি পরিচালনা করা আগুন্তুক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আজ অবধি টুকরো টুকরো করে কিছুটা অর্থ দান করছি, কিন্তু সরকার যে এতো বড় বড় ঘোষণা করছে অনেক A B C D , সাহায্যের হাত বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে তবে সেই অর্থগুলি কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে তা সত্যই ভাবনার সমুদ্রে অথাওয়া।

আমি পথে কিছু সাধারণ মানুষকে যেতে দেখে সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম সেই পরিবারটার যারা দুটো ছোট সন্তান ও তাদের শেষ সম্বল দুটো ব্যাগ হাতে, মাথায় একটা পুঁটলি নিয়ে আসছিলো। যখন সেই পরিবারটা আমার সম্মুখীন আসলো আমি তাদের দাঁড় করলাম কিছু কথা বলবো বলে।কিন্তু তাদেরকে দেখে আমার বেদনার্থী বেড়েছিল, যখন লক্ষ করলাম সেই ছোট্ট তিনটি সন্তান (৫ থেকে ১০ বছরের) কে আমার চোখে অশ্রু তখন আর থামছিলোনা। আমি কোনোরকম নিজের অশ্রুকে এড়িয়ে আমার কাছে চকলেট ছিল বাচ্চাগুলোকে দিতে চাইলে তারা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে তার মায়ের দিকে তাকালো, তাদের মা যখন মাথা নাড়িয়ে আদেশ দিলো তবেই তারা আমার হাত থেকে সেই চকলেট গ্রহণ করলো। আমি ভেতর থেকে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।জানিনা কেন মুহূর্তের জন্যে তাদের প্রতি আমার এতো কোরুনা হলো। আমি ৫০০ টাকার ৩টি নোট তাকে দিয়ে বললাম টাকাটা রাখুন কোথাও কিছু খাবেন। তাদেরকে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম, যে তারা কী করে, তারা কোথা থেকে আসছে, তারা কেন চলে যাচ্ছে, তারা কোথায় যাচ্ছে ইত্যাদি? 


তবে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমার হৃদয় ছিল না গরমে আমিও ঘামছিলাম, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাই, ঘর ক্যাইসে জাওগে, পের্ সে চালকে ইয়া কোই বাস, ট্রেন?” ” সে ভেঙে গেল। সে তার চোখের জল থামানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে বলল, “সাহাব, আপ ভাগবান হো” এবং সে নিচু হয়ে আমার পা ছুঁয়ে গেল।

 লোকটি কেবল আমার এবং আমার পার্কিং গাড়িটির দিকে তাকাল, একটি শুকনো হাসি দিল, এবং বলল, “দেখেতে হ্যায় সাহাব, কুচ ট্রাক টেম্পো মিলেগা তো চালে জায়েঙ্গে”।

আমি ভেবেছিলাম অর্থ প্রদান করা সহজ। তবে আমি একটি বিশাল শিক্ষাপেলাম। কোনও ব্যক্তির মর্যাদা ছিনিয়ে নেওয়া প্রত্যক্ষ করার জন্য যখন কয়েক হাজার টাকার জন্য তাদের বাচ্চার সামনে কারও পা ছুঁতে হয়, এটি আমার জীবনে একটি বিশাল অনুভূতি। আমি তাদের আরও বেশি অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়েছিলাম তবে আমি যতটা পেরেছি সেটা করেছি। আমার মোতে এইসকল মানুষ কে দুর্নীতিবাজ এবং হৃদয়হীন পুলিশ বাহিনী থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে, যারা তাদের নির্বিচারে মারধর করছে। 

আমি এগিয়ে গেলাম কিন্তু এই শ্রমিকদের মধ্যে একটি ট্রাক প্যাকিং ছিল যারা দর নিয়ে আলোচনা করছিল। তাদের আলুর বস্তার মতো নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের গ্রামের পাশের মহাসড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আমি পৌঁছে যেতেই তারা সন্দেহজনকভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। একটি পরিবার হতবাক হয়ে স্তম্ভের নীচে ছড়িয়ে পড়েছিল, স্ত্রী হ্যাজার্ড ছিলেন এবং স্তম্ভের বিপরীতে পিছনে হতাশ হয়ে বসেছিলেন।


আমরা কীভাবে তাদের কাছে যেতে পারি সে সম্পর্কে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমি মেজর পিডিকে বলেছিলাম যে আমি আমার সাহায্যের হাত এদের কে দিতে চাই এটি বলে আমি নোটগুলি হস্তান্তর শুরু করব। আমি কথা বলতে পারছিলাম না তাই অর্থ বের করে প্রত্যেককে ৫০০ টাকার নোট দেওয়া শুরু করলাম। তাদের মুখের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অনেকের চোখের অশ্রু দেখে কিছু বলার দরকার পড়েনি। 

কিছু লোক উচ্চস্বরে ধন্যবাদ জানায়, এবং “ধন্যবাদ বাবুজী”, “আপ দেবতা লগ হো, সাহাব”

আমি আমার লজ্জার অশ্রু আটকে রাখতে সক্ষম না হওয়ায় আমি চলতে শুরু করলাম। এই লোকেরা ভিক্ষুক ছিল না, তারা এই দুর্নীতির শিকার ছিল, এই মানুষগুলো নিজের পরিবার মাইল কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এবং তারা আপনার, আমার মত অভিযোগ করে না। তারা এর চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী ছিল।

 যাইহোক, বিষয়টির মূর্খতা হ’ল এই লক্ষ লক্ষ লোক হতাশাবস্থায় পড়েছে এবং তারা তাদের ছোট বাচ্চাদের দিনে দু’বার খাবার খাওয়াতে না পারায় নিজের এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে সক্ষম না হওয়ায় তারা আজ শান্ত শিকারি।এটাই আজকের বাস্তবতা।


 

Summary
Article Name
সত্যি পরিস্থিতিকে হারাতে সবার আগে দিনমজুর; আমরা যেযার গৃহে, একটি হৃদয়ে ছোঁয়া ঘটনা আমার সাথে:
Description
কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি, দরজার হাতল, প্যাকেট এমনকি শাকসব্জিকে স্যানিটাইজিং করছি কিন্তু অপরদিকে এই লোকেরা অতি নিকৃষ্ট অবস্থার মধ্যে রয়েছে, কারও মুখোশ রয়েছে, কারোর নেই অনেকে জানেইনা কি হচ্ছে আমাদের সাথে.....
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here