ভয়ঙ্কর গতিতে ধেয়ে আসছে ধুলোর ঝড়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে চলবে তাণ্ডবলীলা- জানাচ্ছে নাসা

সাহারা মরুভূমি থেকে এক বিশালাকার ধূসর কুয়াশার মতো আস্তরণ পৃথিবী পৃষ্ঠের পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে। বিধ্বংসী ধুলোর ঝড় আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ক্রমশই ভয়ঙ্কর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার দিকে। সম্প্রতি নাসার একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ দু হাজার মাইল লম্বা এক ধুলোর ঝড় ধেয়ে আসছে।

0

সাহারা মরুভূমি থেকে এক বিশালাকার ধূসর কুয়াশার মতো আস্তরণ পৃথিবী পৃষ্ঠের পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে। বিধ্বংসী ধুলোর ঝড় আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ক্রমশই ভয়ঙ্কর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার দিকে। সম্প্রতি নাসার একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ দু হাজার মাইল লম্বা এক ধুলোর ঝড় ধেয়ে আসছে।

প্রতি বছরই এই সময় সাহারা মরুভূমি থেকে ধুলোর ঝড়ের প্রভাবে বিধ্বস্ত হয় আমেরিকা, মেক্সিকোর মতো দেশ। উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়ার আকাশেও পুরু ধুলোর আস্তরণ দেখা যায়। অনেক সময়েই তা ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। ২০১৪ সালে মধ্য আলজিরিয়া এবং  দক্ষিণ মরোক্কো এলাকা থেকে ধেয়ে আসা ধুলোর ঝড়ে ব্রিটেনে মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছিল দূষণ। দক্ষিণ ইংল্যান্ড, মিডল্যান্ডস ও পূর্ব আঙ্গলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় জারি হয়েছিল রেড অ্যালার্ট। সাহারার এই ধুলোর ঝড়কে আবহবিজ্ঞানীরা বলেন সাহারান এয়ার লেয়ার (SAL) ।

কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, এই বছর এটির তিব্রতা আরও ভয়ানক হতে চলেছে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপরে সেই ধুলোর ঝড় আপাতত অবস্থান করছে। কিন্তু এর লেজের অংশ এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে যদি এটি সাগর পেরিয়ে স্থলভাগে পড়ে, তাহলে এর আকার  হতে পারে প্রায় পাঁচ হাজার মাইল।


একটি বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার আধিকারিক জানিয়েছেন, এ এক অবিশ্বাস্য রকমের ধুলোর ঝড় আসছে। তিনি বলেছেন, “প্রায় একসপ্তাহ আগে উপগ্রহ চিত্রে প্রথম ধরা পড়ে যে আফ্রিকার উপকূল থেকে ধুলোর ঝড় আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই সময়টা প্রায় একসপ্তাহ আগে। এখনও সেই ঝড়ের শেষ অংশ উপকূলেই রয়েছে। তার মানে এটি আকারে মারাত্মক বড়”।

সাহারা থেকে যে এক বিশাল ধুলোর ঝড় তেড়ে আসছে- তা আগেই সতর্ক করেছিল নাসার উপগ্রহচিত্র। গত সপ্তাহেই পশ্চিম আফ্রিকায় এই ধুলোর ঝড়ের অবস্থানের কথা জানিয়েছিল নাসা। এখন প্রায় ৩০০০ মাইল পেরিয়ে এই ঝড় আটলান্টিক থেকে ক্যারিবিয়ান সাগরের দিকে ছুটে চলেছে।

নভশ্চর ডগ হার্লে এই ঝড়ের অবস্থানের ছবি দেখিয়ে টুইট করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য, “আটলান্টিকের পশ্চিমভাগে এই ঝড় এখন অবস্থান করছে। সাহারা থেকে আটলান্টিক পেরিয়ে এর অভিমুখ সোজা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর উপকূলের দিকে। মহাকাশ থেকে এই ধুলোর ঝড়কে দেখতে অনেকটা ধূসর কুয়াশার মতো দেখাচ্ছে, মনে হচ্ছে নীল সমুদ্রের উপরে যেন চাপ চাপ কুয়াশা জমে আছে এবং প্রতিমুহূর্তেই তার অবস্থান বদলে যাচ্ছে”।

আবহবিদরা বলছেন, এই ঝড়ের তাণ্ডব দেখা যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বে  এবং পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে।

ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, পৃথিবী পৃষ্ঠের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ফুটের মধ্যে এই সাহারান এয়ার লেয়ার অবস্থান করছে। এর অভিমুখ পশ্চিমে। শুকনো ধুলো ও বালু কণা বাতাসের তোড়ে প্রচণ্ড বেগে ছুটে যাচ্ছে।

হুস্টনের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের রিপোর্ট বলছে, এই ধুলোর ঝড় ঢেকে দেবে মেক্সিকো উপকূলকে। প্রশাসনকে হাঁপানি বা তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার  দাবী জানিয়েছে।

মরু অঞ্চলের উষ্ণ বায়ু দ্রুত গতিতে অংশের ধুলো ও বালির কনা বহন করে নিয়ে চলে। ক্রমে সেই ধুলো ও বালির কনার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে মারাত্মক ধুলো ঝড়ের সৃষ্টি হয়। ভারতের  রাজস্থানের মরু অংশে এই ধরণের ধুলোর ঝড়কে বলা হয় ‘আঁধি’। তবে, আমেরিকায় ক্রমশ এই ধুলোর ঝড়ের দাপট বাড়ছে বলে অনেকেই দাবী করছেন। এরফলে একদিকে যেমন মরুভূমির বিস্তীর্নতা একটু একটু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে শুকনো ধুলো ও বালু কণা বাতাসে মিশে শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বাড়ছে।

Summary
Article Name
ভয়ঙ্কর গতিতে ধেয়ে আসছে ধুলোর ঝড়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে চলবে তাণ্ডবলীলা- জানাচ্ছে নাসা
Description
সাহারা মরুভূমি থেকে এক বিশালাকার ধূসর কুয়াশার মতো আস্তরণ পৃথিবী পৃষ্ঠের পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে। বিধ্বংসী ধুলোর ঝড় আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ক্রমশই ভয়ঙ্কর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার দিকে। সম্প্রতি নাসার একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ দু হাজার মাইল লম্বা এক ধুলোর ঝড় ধেয়ে আসছে।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo