ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দুর্গাপুজোর বিধিনিষেধ প্রকাশ করল ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’

বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, কীভাবে পুজো হবে তা ঠিক করতে দুর্গাপুজোর সংগঠকদের সংগঠন 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'-এর কার্যকারি কমিটি বৈঠকে বসে। প্রস্তাবে এ ব্যাপারে বেশ কিছু গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। আপাতত এই নিয়ম মেনেই উদ্যোক্তারা মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে এই প্রস্তাবনা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু।

0
Forum for Durgotsab declared rules & regulation for durga puja amid the pandemic-Bengali_The Policy Times

রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই হু হু করে বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বমূখী গ্রাফে রাশ টানতে নিষিদ্ধ হয়েছে জমায়েত। মূল দাওয়াই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। এ দিকে দুর্গাপুজো আসতে ১০০ দিনও বাকি নেই। এমতাবস্থায় কী ভাবে হবে এত বড় উৎসব!

বুধবার নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই দু’টো মাস সংক্রমণ শিখরে উঠবে। ক্লাবগুলোকেও অনুরোধ করব, আপনাদের পাড়াগুলোকে আপনারাই ভাল রাখুন। দেখে রাখুন যাতে সবাই মাস্ক পরেন, বিধি মানেন। পুজো আসছে সামনে। পুজোগুলো করতে হবে তো! তা হলে তো এখন থেকেই ঠিক থাকতে হবে।” -আর এই কথাতেই অন্ধকারের মধ্যে যেন আশার ক্ষীন আলো দেখতে পেয়েছেন শহরের পুজোপ্রেমীরা।

বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, কীভাবে পুজো হবে তা ঠিক করতে দুর্গাপুজোর সংগঠকদের সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর কার্যকারি কমিটি বৈঠকে বসে। প্রস্তাবে এ ব্যাপারে বেশ কিছু গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। আপাতত এই নিয়ম মেনেই উদ্যোক্তারা মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে এই প্রস্তাবনা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু।

বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রস্তাবে যে গাইডলাইনগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল-

  • যথাসম্ভব বাজেট কমিয়ে অনাড়ম্বর পুজো করতে হবে। বাকি অর্থ জনহিতকর কাজে ব্যবহার করতে পারে পুজো কমিটিগুলি।
  • প্যান্ডেল ও প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি না করাই ভালো। রাজ্য সরকার বা পুরসভাকে অনুরোধ করে প্রতিদিন অন্তত একবার পুরো প্যান্ডেল ও প্রতিমা স্যানিটাইজের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।
  • ঠাকুরের ভোগ নিবেদনে গোটা ফল দিতে হবে। পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পুজো, সিঁদুর খেলার সময় সামাজিক দূরত্ব মানা বাধ্যতামূলক।
  • শিল্পী ও কর্মকর্তারা যেন এমন মণ্ডপ তৈরি করেন, যাতে দর্শক মণ্ডপে না প্রবেশ করেই বাইরে থেকে ভালভাবে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন। অন্যদিকে, প্যান্ডেলের প্রবেশ পথ ব্যারিকেড দিয়ে যতটা সম্ভব দীর্ঘ করতে হবে, যাতে দর্শনার্থীরা অনেকটা পথ অতিক্রম মণ্ডপে পৌঁছন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। পাশাপাশি, মূল প্রবেশ পথে ও প্যান্ডেলের ভিতর দায়িত্বরত প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে, তাঁরা যেন কোনওভাবেই সংক্রমিত না হন।
  • স্বেচ্ছাসেবকদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে দর্শকদের মুখ অবশ্যই মাস্কে ঢাকা থাকে। প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথে তাঁদের হাতে যেন স্যানিটাইজার দেওয়া হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মূল প্রবেশ পথে একাধিক থার্মাল গান রাখতে হবে। জ্বর নিয়ে কোনও ব্যক্তিকে প্যান্ডেলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, যাদের পক্ষে সম্ভব তারা পুজোর দিনগুলিতে দর্শকদের লাইনের ওপর স্যানিটাইজার স্প্রে করতে পারেন ।
  • প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দফায় দফার লোক ঢোকাতে হবে। একসঙ্গে বহু দর্শককে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একবারে সর্বাধিক ২৫ জনকে প্যান্ডেলে প্রবেশ করানো যাবে। এমনকি ফোরামের পক্ষ থেকেও পুজোর আগে থেকে প্রচার করা হবে যাতে দর্শকরা সারাদিন ধরে ঠাকুর দেখেন। শুধু রাতের কয়েকঘণ্টা ঠাকুর দেখার জন্যে বেছে না নেন।
  • যে সব মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় স্টল হয়, সেখানে দুটি স্টলের মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪ ফুটের ব্যবধান রাখতে হবে। স্টলের মালিকদের রেডিমেড খাবার বিক্রিতে জোর দিতে হবে। বসিয়ে লোক খাওয়ানো যাবে না।
  • প্রতিযোগিতার বিচারের সময় বিশেষ করে ফাইনাল রাউন্ডে ১৫ জনের বেশি বিচারক বা এজেন্সির টিমকে প্যান্ডেলের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি বিচারককে প্যান্ডেলে থার্মাল স্ক্রিনিং করার পরে ঢুকতে হবে। জ্বর নিয়ে প্যান্ডেলে ঢোকা যাবে না। কেবলমাত্র অল্প বাজেটে নান্দনিক উৎকর্ষতাকেই পুরস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।
  • প্যান্ডেল থেকে লাইট লাগানোর কর্মীদের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার দায়িত্ব পুজো কমিটিকে নিতে হবে। তার জন্য থার্মাল চেকিং থেকে বিভিন্ন প্রতিষেধক পুজো কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে।
  • প্রশাসনকে কুমোরটুলিকে সঠিক ভাবে স্যানিটাইজ করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। ঠাকুর আনার সময় একসঙ্গে অনেকে কুমারটুলিতে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’।
Summary
ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দুর্গাপুজোর বিধিনিষেধ প্রকাশ করল 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'
Article Name
ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দুর্গাপুজোর বিধিনিষেধ প্রকাশ করল 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'
Description
বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, কীভাবে পুজো হবে তা ঠিক করতে দুর্গাপুজোর সংগঠকদের সংগঠন 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'-এর কার্যকারি কমিটি বৈঠকে বসে। প্রস্তাবে এ ব্যাপারে বেশ কিছু গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। আপাতত এই নিয়ম মেনেই উদ্যোক্তারা মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে এই প্রস্তাবনা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু।
Publisher Name
The Policy Times
Publisher Logo