জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় বিশ্ব জুড়ে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়, আমেরিকায় ‘রেসিসম’-এর বিরুদ্ধে কলম ধরলেন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি

জর্জ ফ্লয়েডের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে হলিউডের বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের নানান প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে এবার কলম ধরলেন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি।

0

যন্ত্রনায় রাস্তায় পৃষ্ট হয়ে শেষ মুহূর্তে জলের জন্য আর্তনাদ করছিলেন মধ্যবয়সী আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যাক্তি জর্জ ফ্লয়েড। গোটা বিশ্ব সেদিন তার একটাই ধ্বনি শুনতে পেয়েছিল “আই কান্ট ব্রিদ”।।

২৫ শে মে সোমবার নিরস্ত্র আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডকে পুলিশি হেফাজতে হাঁটুতে পিষে নির্মমভাবে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য পুলিশ। ফ্লয়েডের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যের নাম ডেরেক চাওভিন । ডেরেকের হাঁটুর নিচেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফ্লয়েড। এ নির্মম হত্যার ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব।

জর্জ ফ্লয়েডের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে হলিউডের বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের নানান প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে এবার কলম ধরলেন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি। জানা গেছে,ক্লুনি পশ্চিমে একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা ‘The Daily Beast’ এ একটি প্রবন্ধ লিখেছেন, যেখানে তিনি আইন প্রয়োগকারী, ফৌজদারি বিচার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বে নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রয়োজনের কথা বলেছেন। জর্জ ক্লুনি মন্তব্য করেছেন যে দেশে বর্ণভেদের “মহামারী”র কোনো প্রতিষেধক গত ৪০০ বছরে আবিষ্কার করা হয়নি। এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

অভিনেতা ক্লুনি ছাড়াও জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ। এই হত্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ব্যাপারেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যারা আফ্রিকান-আমেরিকান তরুণকে টার্গেট করে হত্যা করেছে, বুশ তাদের নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে যারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছেন, তাদের সমর্থনও দিয়েছেন। এমনকি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জর্জ ডাব্লিউ বুশ বলেছেন, “এখন বক্তৃতা দেওয়ার সময় নয়, এখন সময় কথা শোনার। তরুণ আফ্রিকান-আমেরিকানরা তাদের নিজেদের দেশেই হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছে”।

 প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ক্রীড়াক্ষেত্রেও

‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ অর্থাৎ ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান’ হ্যাশট্যাগে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে সব জায়গায়। এতে সমর্থন প্রকাশ করেছে অনেক ফুটবল ক্লাব ও ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা। জর্ডান হত্যার প্রতিবাদের জন্য অভিনব এক পথই বেছে নিয়েছে ইংলিশ ফুটবল ক্লাব লিভারপুল।  সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে  অনুশীলনের মধ্যেই ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ করেছেন মোহামেদ সালাহ, সাদিও মানেরা। মাঠের মধ্যখানে যে বৃত্তটি থাকে, সেখানে গোল হয়ে হাঁটু গেড়ে বসেন অনুশীলনে থাকা ২৯ সদস্য। এই প্রতিবাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পোস্ট করেছে ক্লাব লিভারপুল। এছাড়া খেলোয়াড়দের মধ্যেও ভার্জিল ফন ডাইক, জেমস মিলনার, ফাবিনহো, হেন্ডারসনসহ আরও অনেকেই এ ছবি আপলোড করেছেন। প্রত্যেকের ক্যাপশনে রয়েছে — ‘একতাই বল। কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান।’মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রতিবাদের মিছিলে যোগদানকারী কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। শিকাগোর সিসেরো এলাকায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে শিকাগো শহরের মুখপাত্র রে হানানিয়া জানিয়েছেন, ‘সিসেরোর বাইরে থেকে আসা দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে’।

এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরামর্শদাতারা তাকে বলেছেন, তিনি যেন অবিলম্বে টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তবে ট্রাম্প টুইট করে বলেছেন, ‘ডেমোক্রেট মেয়র ও গভর্নররা যেন কড়াভাবে বিক্ষোভের মোকাবিলা করেন।’ হোয়াইট হাউজের কর্মীদের বলে দেওয়া হয়েছে, বিক্ষোভ চলতে থাকলে তারা যেন না আসেন।



 অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভরতদের সরিয়ে দিতে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ থামাতে বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ দিয়ে হেলিকপ্টার ওড়ানো হয়েছিল; এছাড়াও নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট হচ্ছে উল্লেখ করে সোমবার বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান গভর্নর বিল দে ব্লাসিও। তিনি জানান, অনেকে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে লুটপাট করছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, অন্যকে আঘাত করছে।

অপরদিকে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ফেডারেল পুলিশের চালানো দমন-পীড়নকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বৌসের। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সন্ধ্যা ৭টা থেকে কারফিউ জারি করেছিলাম। কিন্তু তার ২৫ মিনিট আগেই কোনোরকমের উসকানি ছাড়াই হোয়াইট হাউসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরতদের ওপর পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওয়াশিংটন পুলিশ বিভাগের কাজকে কঠিন করে তুলবে। এটা লজ্জাজনক।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে ফিরে নিরাপদে থাকার জন্য  আহ্বান জানিয়েছেন মুরিয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী মুখোমুখি অবস্থান সত্ত্বেও কিছু কিছু এলাকায় আবার পরস্পরের সংহতিও দেখা গেছে। আটলান্টা, ডেনভার ও নিউ ইয়র্কে কেউ কেউ আবার হাঁটু গেড়ে বসে ফ্লয়েডকে স্মরণ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতে প্রাক্তন মার্কিন  প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বললেন, যারা বিক্ষোভ করছেন তারা সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। আর যুক্তরাষ্ট্রের এমন সংকট রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। টুইট বার্তায় ওবামা বলেন, “আমাদের অল্পসংখ্যক লোক যারা সহিংসতার পথ অনুসরণ করছেন তাদের নিন্দা করা উচিৎ । তবে বেশিরভাগ  আন্দোলনকারীরা আমাদের শ্রদ্ধা এবং সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বাড়ানো। অবিচারকে সামনে তুলে আনা। কিন্তু আমাদের এই দাবিকে একটি নির্দিষ্ট আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় পরিণত করতে হবে”।

এদিন সন্ধে সাতটার পর কার্ফু চলা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা তাঁদের অবস্থানে অনড়। যদিও সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্ফু কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন। যে শহরগুলিতে বিক্ষোভ দমন করা যাচ্ছে না, সেখানে তিনি সেনা মোতায়েনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিক্ষোভ সামাল দিতে পেন্টাগন থেকে সেনা পাঠানো হয়েছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র জোনাথন হফম্যান জানিয়েছেন, ফোর্ট ব্র্যাগ ও ফোর্ট ড্রাম থেকে সেনা ওয়াশিংটন ও ডিসি এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে সক্রিয় কর্তব্যরত বাহিনী এখনও মোতায়েন করা হয়নি। ওয়াশিংটনে সেনা বাহিনী পাঠানো হবে।

Summary
Article Name
জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় বিশ্ব জুড়ে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়, আমেরিকায় ‘রেসিসম’-এর বিরুদ্ধে কলম ধরলেন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি
Description
জর্জ ফ্লয়েডের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে হলিউডের বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের নানান প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে এবার কলম ধরলেন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo