বিজয়ের ৫০তম বছরে;জিডিপিতে বাংলাদেশ  পেছনে ফেলতে যাচ্ছে এশিয়ার বর্ধনশীলরাষ্টগুলোকে

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে লাল সবুজের স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের পদমর্যাদায় উন্নীত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোট এই দেশটিতে ঘটেছে নিরব বিপ্লব।

0
বিজয়ের ৫০তম বছরে;জিডিপিতে বাংলাদেশ  পেছনে ফেলতে যাচ্ছে এশিয়ার বর্ধনশীলরাষ্টগুলোকে

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের পর এ বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীউৎযাপন করছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর  যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সাহায্য করতে গিয়ে তলা বিহীন ঝুড়ি বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছিল।স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও পরিচিতি বিশ্বদরবারে পরিবর্তন হয়েছে।বাংলাদেশ সাহায্যগ্রহিতার দেশ থেকে সাহায্যদাতা দেশে পরিণত হয়েছে।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে লাল সবুজের স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের পদমর্যাদায় উন্নীত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোট এই দেশটিতে ঘটেছে নিরব বিপ্লব।

করোনামহামারীতেটালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি।বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।বিশ্ব অর্থনীতিতে, চীন করোনার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে অথচ প্রভাবশালী অনেক দেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে করোনামহামারী  মধ্যেও বাংলাদেশ  অর্থনৈতিক উন্নতির দিক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে পেছনে ফেলে  সামনে উঠে এসেছে এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে  তৈরি পোশাক  এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন  সম্ভব হয়েছে স্বাধীনতার ৫০ তম বছরে।

এদিকে মহামারিকরোনার প্রভাব কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি সম্পর্কে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী সংস্থা ‘বিশ্বব্যাংক’। ‘সাউথ এশিয়ান ইকোনমিকসবাউন্সব্যাক বাট ফেসফ্রাজিল রিকভারি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২১ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এরপরে ২০২২ অর্থবছরে একটু কমে গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আর এ অঞ্চলে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে মালদ্বীপ, তারপরই বাংলাদেশ আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিপ্রবৃদ্ধিকরোনার মধ্যেও ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সরকার চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ ও আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ভারত যেখানে অনেক এগিয়ে

মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও আকারের দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতি ১০ গুণ বড়। একটি দেশের নাগরিকেরা আসলেই কতটুকু সম্পদশালী, সেটা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাঁদের ক্রয়ক্ষমতাকতটুকু, তা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ যে অর্থ আয় করেন, তা দিয়ে তিনি কী কী কিনতে পারেন। এ কারণেই বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে তুলনার জন্য ক্রয়ক্ষমতারসমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটির (পিপিপি) ভিত্তিতে জিডিপির আকার হিসাব করা হয়। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পিপিপির ভিত্তিতে জিডিপির হিসাবে বিশ্বে ভারতের অংশ ৭ দশমিক শূন্য ৩৯ শতাংশ, আর বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ৬৫৯ শতাংশ।

তবে জিডিপিতে বাংলাদেশ পরপর  দুই বছর  ভারতকে ছাড়িয়েগেলেও বেশ কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটিকেছাড়িয়ে গেছে আরও সাত বছর আগে। যেমন ভারতের মেয়েদের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার হার বেশি ও নারীপ্রতিজন্মহার কম। আবার ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে নবজাতকের ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হারও কম।

অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসিডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন ‘বাংলাদেশ গত বছর যখন মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে গেল, তখনো আমরা বলেছি, ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে আমরা এখনো পিছিয়ে। ভারত অনেক বড় দেশ। সেখানে বিহার ও ছত্তিশগড়েরমতো যেমন প্রদেশ আছে, তেমনি দিল্লি ও পাঞ্জাবের মতো রাজ্যও আছে। তাই গড় করলে সবার প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। আর ক্রয়ক্ষমতার সূচকে তারা এগিয়ে মানে জীবনযাত্রার মানে এগিয়ে। তবে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ভালো করছে। সুতরাং মাথাপিছু জিডিপি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সূচকে নজর দিতে হবে’।

কেন এত আলোচনা

গত বছর অক্টোবরে প্রথম যখন আইএমএফ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া পূর্বাভাস দেয়, তখনই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ভারতের গণমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হয়। আলোচনা হয় বাংলাদেশেও।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুও এ নিয়ে একটি টুইট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আইএমএফেরপ্রাক্কলন দেখাচ্ছে বাংলাদেশ মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। যেকোনো উদীয়মান অর্থনীতির ভালো করাটা সুসংবাদ। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, পাঁচ বছর আগেও যে ভারত ২৫ শতাংশ বেশি এগিয়ে ছিল, সেই ভারত এখন পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন ভারতের প্রয়োজন একটি সাহসী আর্থিক ও মুদ্রানীতি তৈরি করা।’

যেভাবে এগিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া মোটেই আকস্মিক কিছু নয়। তবে ২০০৪ সাল থেকেই বাংলাদেশ , ভারত এবং পাকিস্তানের  অর্থনীতি অনেক বেশি দ্রুত হারে এগিয়েছে। এই এগিয়ে যাওয়া বজায় ছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ২০১৭ থেকে। করোনামহামারী তে  বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে দ্রুতগতিতে। আবার গত ১৫ বছরে ভারতের জনসংখ্যা বেড়েছে ২১ শতাংশ, আর বাংলাদেশের বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এসবের প্রভাব পড়েছে মাথাপিছু আয়ে। ২০০৭ সালেও কিন্তু বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ভারতের অর্ধেক। আর ২০০৪ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ছিল বাংলাদেশের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।

Summary
Article Name
বিজয়ের ৫০তম বছরে;জিডিপিতে বাংলাদেশ  পেছনে ফেলতে যাচ্ছে এশিয়ার বর্ধনশীলরাষ্টগুলোকে
Description
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে লাল সবুজের স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের পদমর্যাদায় উন্নীত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোট এই দেশটিতে ঘটেছে নিরব বিপ্লব।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo