করোনা প্রতিষেধক তৈরির দৌড়ে ভারতের সাতটি ওষুধ নির্মাতা সংস্থা, দিল্লির এইমস-এ শুরু হল মানব দেহে কোভ্যাক্সিন-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

গতকাল থেকেই দিল্লির এইমস-এ ভারতে তৈরি করোনার প্রতিষেধক কোভ্যাকসিন-এর মানব দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। নাম নথিভুক্তিকরণ শুরু হওয়ার পর প্রথম ১০ ঘণ্টায় অন্তত ১০০০ জন রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।

0
করোনা প্রতিষেধক তৈরির দৌড়ে ভারতের সাতটি ওষুধ নির্মাতা সংস্থা, দিল্লির এইমস-এ শুরু হল মানব দেহে কোভ্যাক্সিন-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ . The policy times

করোনার থাবায় জর্জরিত সারা বিশ্ব। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীদের এখন একটাই লক্ষ্য- যেভাবেই হোক দ্রুত করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা। এই তালিকায় বাদ নেই ভারতও। এবার এদেশের বিজ্ঞানীদের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজে দেখা গিয়েছে আশার আলো। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি  সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতের অন্তত সাতটি ওষুধ নির্মাতা সংস্থা এই মুহূর্তে করোনা প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা করছে৷

গোটা বিশ্বের মতো ভারতেও করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷ এই তালিকায় রয়েছে ভারত বায়োটেক, সিরাম ইনস্টিটিউট, জাইডাস ক্যাডিলা, প্যানাকিয়া বায়োটেক, ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস, মিনভ্যাক্স এবং বায়োলজিক্যাল ই৷ হায়দ্রাবাদারে ভারত বায়োটেক ইতিমধ্যেই তাদের তৈরি প্রতিষেধক কোভ্যাক্সিনের প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার অনুমতি পেয়েছে৷ গত সপ্তাহেই ওই প্রতিষেধকের মানব দেহে পরীক্ষা শুরু হয়েছে৷ আজ থেকে দিল্লির এইমস-এ ভারতে তৈরি করোনার প্রতিষেধক কোভ্যাকসিন-এর মানব দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে৷ এইমস-এর কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক চিকিৎসক সঞ্জয় রায় জানিয়েছেন, “যাঁদের শরীরের অন্য কোনও অসুস্থতা নেই, করোনায় আক্রান্ত হননি এবং যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে, তাঁদেরই শরীরেই পরীক্ষামূলক ভাবে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে৷ যাঁরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম নথিভুক্তিকরণ করেছেন, তাঁদের শারীরিক পরীক্ষার কাজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে৷”

দেশের অন্যতম বৃহত্তম ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ বছরের শেষ দিকে তাঁরা করোনার প্রতিষেধক তৈরি করে ফেলার বিষয়ে আশাবাদী৷ সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সি ই ও আদর পুনাওয়ালা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “বর্তমানে আমরা AstraZeneca-র সঙ্গে মিলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রতিষেধকটি তৈরি করছে, সেটি নিয়ে কাজ করছি৷ ওই ভ্যাকসিন আপাতত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে৷ এর পাশাপাশি আগামী অগাস্ট মাসের শেষ দিকেই আমরা ভারতেও মানব দেহে আমাদের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করব৷ এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে এ বছরের শেষ দিকেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ভ্যাকসিন ভারতে চলে আসবে বলে আমরা আশাবাদী৷”

তিনি আরও জানিয়েছেন, AstraZeneca-র সঙ্গে তাদের চুক্তি অনুযায়ী তারা অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনের ১০০ কোটি ডোজ উৎপাদন করবেন৷ এই ভ্যাকসিনের ডোজগুলি মূলত ভারত সহ অন্যান্য কম আয়ের দেশগুলিতে সরবরাহ করা হবে৷ এছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাদের সংস্থা বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সি ই ও।


জাইডাস ক্যাডিলা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ZyCoV-D প্রতিষেধকটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আগামী সাত মাসের মধ্যেই শেষ হবে৷ গত সপ্তাহেই এই সংস্থা মানব দেহে তাদের তৈরি প্রতিষেধক প্রয়োগ করা শুরু করেছে৷ Panacea Biotech জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা রেফানার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনা প্রতিষেধের ৫০ কোটি ডোজ তৈরি করবে৷ তার মধ্যে ৪ কোটি ডোজ আগামী বছরের শুরুর দিকেই সরবরাহের জন্য তৈরি হয়ে যাবে বলে আশাবাদী সংস্থা। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের অধীনস্থ সংস্থা ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষেধক তৈরির কাজ চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি Mynvax এবং Biological E- এই দু’টি সংস্থাও করোনার ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক এবং ICMR-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে করোনার প্রতিষেধক কোভ্যাক্সিন। কিছুদিন আগেই ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া(DCGI) কোভ্যাক্সিন-এর হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছিল। হায়দরাবাদের সংস্থা ‘হেটেরো-র তৈরি করোনার ওষুধ ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, দিল্লি-সহ গুজরাত, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গনাতে পৌঁছেছে।

গতকাল থেকেই দিল্লির এইমস-এ ভারতে তৈরি করোনার প্রতিষেধক কোভ্যাকসিন-এর মানব দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। নাম নথিভুক্তিকরণ শুরু হওয়ার পর প্রথম ১০ ঘণ্টায় অন্তত ১০০০ জন রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন। কোভ্যাকসিন-এর প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য আইসিএমআর এবং এইমস-সহ ১২টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৩৭৫ জনের শরীরে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হবে। তার মধ্যে এইমস থেকে ১০০ জন থাকতে পারেন।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য যাঁরা নাম লেখাতে ইচ্ছুক তাঁরা [email protected]এ ইমেল পাঠাতে পারেন, অথবা ৭৪২৮৮৪৭৪৯৯ নম্বরে এস এম এস পাঠাতে পারেন৷

সূত্র- নিউজ 18 বাংলা

Summary
Article Name
করোনা প্রতিষেধক তৈরির দৌড়ে ভারতের সাতটি ওষুধ নির্মাতা সংস্থা, দিল্লির এইমস-এ শুরু হল মানব দেহে কোভ্যাক্সিন-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ
Description
গতকাল থেকেই দিল্লির এইমস-এ ভারতে তৈরি করোনার প্রতিষেধক কোভ্যাকসিন-এর মানব দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। নাম নথিভুক্তিকরণ শুরু হওয়ার পর প্রথম ১০ ঘণ্টায় অন্তত ১০০০ জন রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo