লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ, হিমাচলপ্রদেশের চিন সীমান্ত লাগোয়া কিন্নৌর, লাহুল-স্পিতিতে হাই অ্যালার্ট জারি করল প্রশাসন

ইতিমধ্যেই হিমাচলপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চিনা সীমান্ত লাগোয়া কিন্নৌর, লাহুল-স্পিতিতে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। হিমাচল পুলিশের মুখপাত্র খুশল শর্মা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সবরকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

0

সোমবার সন্ধ্যার পর  গালওয়ান উপত্যকায় ১৪ নং পয়েন্ট থেকে চীনের লালফৌজের সরে যাওয়ার কথা কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে এগিয়ে এসে ১৪ এবং ১৫ নং পয়েন্টের দখল নিতে আগ্রাসী হয় চীন,-এর জেরেই ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ শুরু  হয়। গোলাগুলি না চললেও লাঠি, রড নিয়ে সংঘর্ষে দু’পক্ষের অনেকে হতাহত হন। মঙ্গলবার প্রথমে  ভারতীয় সেনার তরফে তিন জনের মৃত্যুর কথা বলা হয় । কিন্তু পরে ভারতীয় সেনা নিশ্চিত করে জানায়, সংঘর্ষে গুরুতর জখম আরও ১৭ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হওয়ার পর প্রায় জিরো ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকায় তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়। বুধবার তার সঙ্গে আরও চার সেনা জওয়ানের আহত হওয়ার খবর জানাল এ এন আই। অর্থাৎ এই নিয়ে মোট ভারতের দিকে হতাহতের সংখ্যা ২৪। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সেনা সূত্রে খবর, গোলাগুলি নয়, পাথর, রড নিয়ে হামলা চালায় চিনের জওয়ানরা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। এরপর ভারতীয় সেনার তরফ থেকে জানানো হয়, পারস্পরিক শান্তি চুক্তি মেনে সেনা সরিয়ে আনা হয়।

উল্লেখ্য সংস্থা থেকে ভারত-চীন সংঘর্ষে চিনা বাহিনীর এক কমান্ডিং অফিসারের মৃত্যু হয়েছে বলে ভারতীয় সেনার সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে বেজিংয়ের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অসমর্থিত সূত্রের খবর, চিনা বাহিনীর ৪৩ জন হতাহত হয়েছেন। বেজিং  হতাহতের খবর সরকারিভাবে স্বীকার করলেও হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট করে উল্লেখ   করেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রক  স্বীকার করেন যে তাদের দিকেও সেনা জওয়ানরা হতাহত হয়েছেন। বেজিংয়ের তরফে অবশ্য গোড়া থেকেই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রাখা হয়েছিল।


ইতিমধ্যেই হিমাচলপ্রদেশে  হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চিনা সীমান্ত লাগোয়া কিন্নৌর, লাহুল-স্পিতিতে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। হিমাচল পুলিশের মুখপাত্র খুশল শর্মা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সবরকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

লাদাখে ইন্দো-চিন সংঘর্ষের জেরে উদ্বেগপ্রকাশ রাষ্ট্রপুঞ্জের। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের অফিসের বিবৃতি,”ভারত-চিন দু’দেশকেই সংযত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। দু’দেশই উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগী হয়েছে। এই প্রচেষ্টা সন্তোষজনক।”

এদিকে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলেছে আমেরিকা। শান্তিপূর্ণভাবে এই সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিচ্ছে ট্রাম্পের দেশ।

সীমান্তের সংঘর্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি টুইট করে জানান, “আমাদের সেনাবাহিনীর বলিদান বৃথা যাবে না। শূন্য তাপমাত্রায় আমাদের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় ত্যাগ স্বীকার করার জন্য দেশ তাঁদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে – আমরা সুরক্ষিত রয়েছি কারণ, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও ত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছে। “

নিহত ভারতীয় জওয়ানদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের মহম্মদবাজারের বাসিন্দা রাজেশ ওরাং, তাঁকে স্যালুট জানিয়ে রাজ্যপাল লেখেন, “বীর জওয়ানকে স্যালুট, তাঁর পরিবারকে জানাই সমবেদনা। দেশ তাঁর বলিদান ভুলবে না।”। এছাড়াও শহিদ তালিকায় রয়েছেন কমান্ডিং অফিসার কর্নেল সন্তোষ, কে পালানি, সুনীল কুমার ওঝা।

গালওয়ানে ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই নয়াদিল্লিতে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্তা ও মন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছে। তবে সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি দেননি কোনও মন্ত্রী। নিহত জওয়ানদের শ্রদ্ধা এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এদিন তিনি টুইটে বলেন, ‘‘গালওয়ানে সেনা জওয়ানদের মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক। কর্তব্যে গিয়ে ভারতীয় সেনা আবারও নজিরবিহীন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই সেনা জওয়ানদের সাহসিকতা দেশ কখনও ভুলবে না। নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। দেশ কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে তাঁদের পাশে আছে। এই জওয়ানদের সাহসিকতা ও স্বার্থ ত্যাগে আমরা গর্বিত।’’

উল্লেখ্য, মে মাসের গোড়া থেকেই গালওয়ান উপত্যকা অঞ্চলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা মোতায়েন শুরু করে চিন তাই ভারতের দিক থেকেও একই ভাবে সেনা মোতায়েন করা হয়। এর জেরে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে।  দু’পক্ষের সেনা মোতায়েন থাকলেও সংঘর্ষের হয়নি। শুরু হয়েছিল সেনা পর্যায়ের আলোচনাপর্ব। দু’পক্ষের আলোচনায় ধাপে ধাপে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,  কিন্তু তার মধ্যেই এই অতর্কিত সংঘর্ষে ফের নতুন করে গুটি সাজাতে হবে তাঁদের।

Summary
Article Name
লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ, হিমাচলপ্রদেশের চিন সীমান্ত লাগোয়া কিন্নৌর, লাহুল-স্পিতিতে হাই অ্যালার্ট জারি করল প্রশাসন
Description
ইতিমধ্যেই হিমাচলপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চিনা সীমান্ত লাগোয়া কিন্নৌর, লাহুল-স্পিতিতে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। হিমাচল পুলিশের মুখপাত্র খুশল শর্মা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সবরকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo