সংক্রমণই তৈরি করবে হার্ড ইমিউনিটি, স্কুল-কলেজ খোলার দাবী করলেন এইমস-এর চার চিকিৎসক

সবাই যখন ভ্যাকসিনের সাহায্যে ভাইরাস সংক্রমণ রোখার কথা বলছেন তখন চার চিকিৎসকের দাবি, এখন লকডাউনের বদলে যদি স্কুল, কলেজে খুলে দেওয়া হয় তাহলেই সংক্রমণ হয়ে, মানব দেহে তৈরি হবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’। আর তাতেই হারানো যাবে এই মারণ ভাইরাসকে।

0
সংক্রমণই তৈরি করবে হার্ড ইমিউনিটি, স্কুল-কলেজ খোলার দাবী করলেন এইমস-এর চার চিকিৎসক. The policy times

 করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার মূল অস্ত্র হল সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। তাই লকডাউন করাই শ্রেয়- অন্তত বিশেষজ্ঞদের এমনই মত। আর সেই মত মেনে চলছে সারা বিশ্ব। বাদ পড়েনি ভারতও। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশের অনেক জায়গাতেই নতুন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হারিয়ে গেছে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছেন দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসা কেন্দ্র এইমসের একদল চিকিৎসক। তাঁদের মত, সংক্রমণের মাধ্যমে ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলাই সেরা উপায়। সবাই যখন ভ্যাকসিনের সাহায্যে ভাইরাস সংক্রমণ রোখার কথা বলছেন তখন চার চিকিৎসকের দাবি, এখন লকডাউনের বদলে যদি স্কুল, কলেজে খুলে দেওয়া হয় তাহলেই  সংক্রমণ হয়ে, মানব দেহে তৈরি হবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’। আর তাতেই হারানো যাবে এই মারণ ভাইরাসকে।

করোনা সংক্রমণের একেবারে প্রথম দিকে একেবারে উল্টো পথে হেঁটে করোনার মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তাঁর হার্ড ইমিউনিটি তত্ত্ব গোটা বিশ্বেই সমালোচিত হয়েছিল। বরিস নিজেও করোনায় আক্রান্ত হন। এবার বরিসের সেই তত্ত্বে ভরসা দেখাল অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স।

অধ্যাপক চন্দ্রকান্ত এস পাণ্ডব, অধ্যাপক স্বদীপ শ্রীবাস্তব, অধ্যাপক সঞ্জয় কে রাই এবং অধ্যাপক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে কোভিড ১৯ ভাইরাসের সম্মুখে একেবারে উন্মুক্ত হতে পারলেই তৈরি হবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’।


তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে হার্ড ইমিউনিটি কি?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মানব শরীরে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়ার দুটি উপায়। প্রথমত ভ্যাকসিন, যা মারণ ভাইরাসকে প্রতিহত করার ক্ষমতা তৈরি করে। আর অন্যটি হল পূর্ব সংক্রমণ, যা এই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডির কাজ করবে।

চিকিৎসক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (পুণের ডিওয়াই পাতিল মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের প্রধান) মত অনুযায়ী- স্কুল, কলেজ খুলে গেলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। শিশু এবং যুবকদের মধ্যে থাকা ‘ফ্রেশ ইমিউনিটি’ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুলনায় বেশি সক্ষম। আমরা যদি এই প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে পারি, তাহলে অনেকের প্রাণ বাঁচবে। গবেষণায় প্রমাণিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি জেলায় করোনায় একটি শিশুরও মৃত্যু হয়নি।

চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার রাই (এইমস-এ সেন্টার অব কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক) বলেছেন, “ আমরা জানি না কবে এই মারণ রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে এবং তা আদৌ কাজ করবে কিনা। এই অবস্থায় সংক্রমণই বিকল্প পথ। হার্ড ইমিউনিটি তৈরির ২টি উপায়। প্রথমটি হল, ভ্যাকসিন আর অন্যটি, সংক্রমণে নিজেকে উন্মুক্ত করা।

চিকিৎসক স্বদীপ শ্রীবাস্তব (হিল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা) বলেছেন, “বিশেষজ্ঞরা হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে একটি বিকল্প পথের কথা বলছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকেছে, কর্পোরেট মহলেও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের প্রবণতা বেড়েছে। এই কর্মসংস্কৃতি হয়ত তাঁদের করোনার ছোঁয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখছে তবে অন্যদিকে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও হ্রাস করছে।”

সেন্টার অব কমিউনিটি মেডিসিনের প্রাক্তন প্রধান চিকিৎসক চন্দ্রকান্ত এস পাণ্ডব  লকডাউন নয়, হার্ড ইমিউনিটিই একমাত্র প্রতিষেধক যা কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারে বলে দাবী করেছেন।

সূত্র- এবিপি আনন্দ

Summary
Article Name
সংক্রমণই তৈরি করবে হার্ড ইমিউনিটি, স্কুল-কলেজ খোলার দাবী করলেন এইমস-এর চার চিকিৎসক
Description
সবাই যখন ভ্যাকসিনের সাহায্যে ভাইরাস সংক্রমণ রোখার কথা বলছেন তখন চার চিকিৎসকের দাবি, এখন লকডাউনের বদলে যদি স্কুল, কলেজে খুলে দেওয়া হয় তাহলেই সংক্রমণ হয়ে, মানব দেহে তৈরি হবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’। আর তাতেই হারানো যাবে এই মারণ ভাইরাসকে।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo