ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সত্যিই সত্যিই ‘কম’ নাকি পরীক্ষার হার ‘কম’ নাকি ধরা পড়েছে কম?

উঠে আসছে জরুরি প্রশ্ন ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সত্যিই 'কম', নাকি সঠিক পরীক্ষা না হওয়ায় ধরা পড়ছে কম? কম সংক্রমণের এই হার স্বস্তিদায়ক......

0

০১-০৫-২০২০ আজকে এই সময় দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫,০০০ পেরিয়ে। ভারত যে পরিমান পরীক্ষা করেছে প্রায় সমসংখ্যক পরীক্ষা ব্রিটেনেও করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ব্রিটেনে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। জনসংখ্যার নিরিখে ভারতের তুলনায় আমেরিকা ৩৩ গুণ বেশি করোনা পরীক্ষা করেছে। আমেরিকাতে ১০ হাজার পরীক্ষার মধ্যে ১৭৫০ জন কে পজিটিভ পাওয়া যায়। এখানে ভারতে সংখ্যাটা ৪০০ থেকে একটু উর্ধে। স্পেন, ইতালি, ইরান, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডার মতো বহু দেশের তুলনাতেই পরীক্ষার সঙ্গে আনুপাতিক হারে পজিটিভের সংখ্যা ভারতে কম। অর্থাৎ, এখানে গত কয়েকদিনের যে পরীক্ষার চিত্র আমরা পাচ্ছি, তাতে সমাহারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি। দেশে এমনটা কেন হচ্ছে ?

এখানথেকেই উঠে আসছে জরুরি প্রশ্ন। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সত্যিই ‘কম’, নাকি সঠিক পরীক্ষা না হওয়ায় ধরা পড়ছে কম? কম সংক্রমণের এই হার স্বস্তিদায়ক নাকি লকডাউনের জন্যে আসল ছবিটা সামনে আসছেনা? সাময়িক সময়ের জন্যে ভাবলে মনে হয় যদি লোকডাউন বন্ধ করে সবকিছু পুনরায় চালু করা হয় তবে অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও ঝড়ের বেগে বাড়তে পারে আক্রান্তের সংখ্যা।রিপোর্ট জানাচ্ছে যে উপরিউক্ত প্রায় সব দেশগুলিতে জানুয়ারির শেষ দিকে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে।ভারতে মার্চের অর্ধ সময় ১০০ কে পেরিয়েছিলো।যা ব্রিটেনে হয়েছে ৫ মার্চ নাগাদ, আমেরিকায় মার্চের একেবারে শুরুতে। ২৯ ফে

ব্রুয়ারি স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৩, ফ্রান্সে ৫৭। সেক্ষেত্রে এই দেশগুলি আজ অশান্ত সময় কাটাচ্ছে। ভারতের অনেক আগে মহামারীর আকার নিয়েছে কোভিড-১৯। চলছে মৃত্যুমিছিল। কিন্তু এখানে ভারতে মৃতের সংখ্যা হাজার পেরিয়েছে সবে।ঘটনাচক্রে এই দেশগুলিতে জনঘনত্ব ভারতের তুলনায় অনেক কম কিন্তু তারাই বেহাল অবস্থায়।

এখানে স্পষ্ট প্রশ্ন এমন কি জাদু যে ভারতে এখনো কোরোনায়ে মৃতের সংখ্যা ‘কম’, সংক্রমণের সংখ্যাও ‘কম’ ?

ফটাফট লোকডাউনের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার অনেকটাই লাগাম পরানো গিয়েছে, তা একবাক্যে মানছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সেটাই একমাত্র সন্তুষ্টি নয়।নানা কারণে প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে না বলেই অভিমত অনেকের। অনেকের মোতে, লকডাউনের পর লোকডাউন ঘোষণা করে সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কে পিছিয়ে দিয়েছে ভারত সাফল্য যদি মনে করা হয় তবে শুধুই এইটুকু।

‘এটা সত্য যে অন্য দেশের সাথে তুলনা করলে চলবেনা, ভারতের কৌশলে গলদ রয়েছে। ভুল লোকের পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট, আইসিএমআরের প্রাক্তন এমেরিটাস মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট টি জেকব জনের অভিযোগ। তার সাপেক্ষে দু’লক্ষেরও বেশি কোরোনা আক্রান্ত মানুষ থাকার কথা দেশে।প্রায়ই শুনছি হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কারণ সাস্থ সেবাকর্মীরাও আক্রান্তিত এই রোগে। আবারো প্রশ্ন এঁদের মধ্যে কারা দেশ জুড়ে সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন? যারা অবৈধভাবে এখনো সংক্রমিত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁদেরকে কি  হিসেবের মধ্যে আনা হচ্ছে? ৩৫ হাজার সংখ্যাটা আসল চিত্রের প্রতিফলন হতেই পারেনা। ‘ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ডিজিজ ডায়নামিক্স, ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিসির ডিরেক্টর রামানন লক্ষ্মীনারায়ণেরও অভিমত, ‘কিছু দিন হল ভারত পরীক্ষা বাড়াতে পেরেছে। সংখ্যার চেয়ে পরীক্ষার হারই আসল চিত্র।কিন্তু এতে ভারত এখনও কোনো কাজের কাজ করে উঠতে পারেনি।শুধু লকডাউন করে সংক্রমণের হার কমিয়ে রাখতে পেরেছে, লোকডাউন তা ঠিক কিন্তু বিনা পরীক্ষায় অযথা লোকডাউন কোনো কাজে আসবেনা। আজকে ভারত সরকার লোকডাউন করে প্রমান দিচ্ছে যে আমরা এখনো অনেক ভালো আছি, “এই লোকডাউনে সবথেকে বিপদগ্রস্ত তারাই হয়েছে যারা সবসময় বিপদে আর অভাবে কাটায়” আজকে চাপিয়ে রেখে কাল যখন লোকডাউন খুলবে সবাই যেযার মতো ছুটবে তখন আসল চিত্র সামনে আসবে, তখন আবার দোষের ভার পড়বে সাধারণ মানুষগুলোর ওপর। “আজকে শান্ত আছি কালকে যে পুরোপুরি ঠিক হবে তা কিন্তু না বসন্তের সাগর এসে সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতেও পারে”।


‘লোকডাউন তুললে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা আস্ত চলচ্চিত্রও হতে পারে। লকডাউন অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

‘ভারতে সংখ্যাটা এখনও কম কারণ, ভারত পিক থেকে অনেকটা দূরে রয়েছে।কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইজার) বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক পার্থসারথি রায়ের বক্তব্য,  কম হওয়ার কারণ তুলে ধরেছেন পার্থসারথি। তাঁর ব্যাখ্যানুজাই, ‘প্রথমত, ভারতে তরুণের সংখ্যা ইউরোপ, আমেরিকার তুলনায় অনেক বেশি।যার জন্যই মৃত্যু তুলনায় কম। দ্বিতীয়ত, বিসিজি টিকা যে দেশগুলিতে দেওয়া হয়, সেখানে সংক্রমণের হার কম। হয়তো সেদিক থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা আফ্রিকার দেশগুলি। তৃতীয়ত, ভারতের মতো দেশে সামান্য জ্বর-সর্দি হলে মানুষ প্যারাসিটামল কিনে নেন। সামান্য জ্বরজারি পাত্তা না-দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। যেটা ইউরোপ বা আমেরিকায় হয় না। লোকজন হাসপাতালে রিপোর্ট করেন। অ্যান্টিবডি টেস্ট হলে এর একটা হদিস পাওয়া গেলেও যেতে পারে। তার উপর করোনা-কলঙ্কের ভয়ে অনেকেই উপসর্গ লুকিয়ে রাখছেন। ফলে আসল সংখ্যাটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।’ ‘সংখ্যাটা কম, এটা ভালো লক্ষণ বক্তব্য আইজার মোহালির সেলুলার ভাইরোলজির অধ্যাপক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের,। মিউটেশনের ফলে ভাইরাস কমজোরি হয়ে পড়ছে কি না, সেটা আরও বেশি জিনোম সিকোয়েন্সিং করে দেখতে হবে। তবে আরও কিছু দিন না-গেলে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। ভারতের মতো ১৩০ কোটির দেশে নমুনা সংগ্রহ কী ভাবে করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

সংখ্যানুযায়ী মনের মধ্যে আপাত আশার আলো। কিন্তু জ্বলন্ত প্রদীপের নীচে অন্ধকারাচ্ছন্ন নেই তো?


 

Summary
Article Name
ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সত্যিই সত্যিই ‘কম’ নাকি পরীক্ষার হার 'কম' নাকি ধরা পড়েছে কম?
Description
উঠে আসছে জরুরি প্রশ্ন ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সত্যিই 'কম', নাকি সঠিক পরীক্ষা না হওয়ায় ধরা পড়ছে কম? কম সংক্রমণের এই হার স্বস্তিদায়ক......
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo