বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন কলকাতার উড়ান পরিষেবা, ব্যবসা গোটানোর ইঙ্গিত মালয়েশিয়ার উড়ান সংস্থা এয়ার এশিয়ার

0
0

করোনা আবহের জেরে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে উড়ান পরিষেবা। বিশেষ করে কলকাতায় এর  ক্ষতির পরিমান ক্রমশই বাড়ছে। করোনার জেরে দীর্ঘ লকডাউন চলার পর আনলক ওয়ানে কলকাতা থেকে উড়ান চালাতে গিয়ে বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা। স্পাইস জেট ও ইন্ডিগো এখন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে, অথচ এই সংস্থা দুটি অন্তর্দেশীয় পরিষেবায় কলকাতা থেকে সবচেয়ে বেশি বিমান চালায়। এছাড়াও ১২৩ কোটি টাকা লোকসান করে এবার ভারত থেকে ব্যবসা গোটানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে মালয়েশিয়ার উড়ান সংস্থা এয়ার এশিয়াও। আনলক-ওয়ানের পর বিমানের সংখ্যা এখনও কম কলকাতায়।

দীর্ঘ লকডাউনের পর গত ২৮ মে থেকে কলকাতায় চালু হয়েছে অন্তর্দেশীয় উড়ান পরিষেবা। প্রথমে দশটি উড়ান দিয়ে চালু হয় তারপর এর ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়ানো হয়। এখন প্রতিদিন কলকাতা থেকে ৬১ টি উড়ান চলাচল করে। তবে এর তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে দিল্লি ও মু্ম্বই। দিল্লিতে প্রতিদিন ১৪০ টি এবং মুম্বই থেকে ১৫০ টি করে বিমান চলাচল করে। অবশ্য উড়ান বাতিলের নিরিখে বাকি দুটি জায়গার থেকে কলকাতার সংখ্যা বেশি।

ইতিমধ্যে এই করোনা আবহে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২৩ কোটি টাকা মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার। এর কারণে ব্যবসা গোটানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সংস্থা। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাকি জায়গায় পরিষেবা চালু রাখলেও জাপান ও ভারতে ব্যবসা বন্ধের কথা ভাবছে উল্লেখ্য সংস্থা। সাত বছর আগে টাটার হাত ধরে তুলনামূলকভাবে সস্তার উড়ান পরিষেবা দিতে প্রথম ভারতে এসেছিল এয়ার এশিয়া। এই সংস্থা পরিষেবা বন্ধ করলে সরাসরি বিমান পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।


এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাড়ি ফেরার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশ উড়ানের সাহায্য নিচ্ছেন। বাইরে থেকে কলকাতায় ফিরলেও, কলকাতা থেকে এখন কেউ বাইরে যাচ্ছেন না। অপরদিকে কর্পোরেট যাতায়াতও বন্ধ। তাই বিমান পরিষেবায় উত্তরোত্তর বাড়ছে ক্ষতির পরিমান। তাই আনলক হলেও পরিস্থিতি এখনও গুরুতর। কবে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

অন্যদিকে বিশেষ উড়ানগুলিতে কোভিড-১৯ বিধি মানা হচ্ছে না বলে জোরালো অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার,  নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অবিলম্বে বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা দরকার। খুব প্রয়োজনে মাসে একটি উড়ান চালানো যেতে পারে”। কারণ হিসাবে মমতা বলেন, “শুধুমাত্র একটা কাগজে যাত্রীদের সম্পর্কে লিখিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের কোনো পরীক্ষাও হচ্ছে না। যাঁরা বিমানে করে আসছেন, তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, কোনো কিছুরই খোঁজ মিলছে না।”

এদিন  মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে তাঁর পরামর্শ সহ চিঠি কেন্দ্রকে দিচ্ছেন। তাঁর মতে, “প্রয়োজনে ১৫ দিন অন্তর একটা করে বিমান আসতে পারে। আমাদের রাজ্যের মধ্যে কলকাতা থেকে অন্ডাল এবং সেখান থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াত করতে পারে”।

শুধু বিদেশ থেকে আসা উড়ানই নয়, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন ঘরোয়া উড়ান নিয়েও। তিনি  বলেন, “সংক্রামিত এলাকা থেকে আসা ঘরোয়া বিমানগুলির ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় দেখা উচিত। ওই বিমানে অনেকে গা ঘেষাঘেষি করে আসছেন। কয়েক দিন আগেই একটি বিমান দু’জন করোনা পজিটিভ যাত্রী অন্যদের সঙ্গে চলে এসেছে। এমনটা মোটেই করা যাবে না”। একই সঙ্গে বিশেষ ট্রেনগুলিতেও করোনা প্রতিরোধের নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন করেন, “দিনে ১০টা করে বিশেষ ট্রেন রাজ্যে ঢুকছে। এ ভাবে যদি সব কিছুই চলতে থাকে, তা হলে লকডাউন করে কি লাভ? সংক্রমণ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।”

সূত্র- নিউজ ১৮