‘মানুষকে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করানো উচিত’; পরামর্শ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের সঙ্গে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-ও। ওই দিন কনফারেন্সে তিনি সরকারকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

0
302 Views

করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সামাল দিতে বিশেষ “গ্লোবাল আডভাইজারি বোর্ড  ফর কোভিড রেসপন্স পলিসি ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল” গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বোর্ডের শীর্ষে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ডঃ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের সঙ্গে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-ও। ওই দিন কনফারেন্সে তিনি সরকারকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যেখানে সঙ্ক্রমণের আশঙ্কা বেশি সেখানে বেশি করে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে”।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়  ছাড়াও বোর্ড-এ ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) আঞ্চলিক অধিকর্তা স্বরূপ সরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি-র প্রাক্তন কর্ণধার টম ফ্রেডেন, বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থনীতিবিদ জিষ্ণু দাস, পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের প্রাক্তন আইএএস অফিসার তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জেভিআর প্রসাদ রাও, ইউএনএআইডিএস-এর কমিউকেশন স্পেশালিস্ট সিদ্ধার্থ দুবে। আহ্বায়ক ছিলেন চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী।

ওই দিন আয়োজিত ভিডিও সম্মেলনে নোবেলজয়ীর থেকে পরামর্শ চান মুখ্যমন্ত্রী। আতঙ্কিত না-হয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে আবেদন করলেন অভিজিৎবাবু। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যে-হেতু বাজার খোলা রয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের বক্তব্য, ‘বাজারে ঢোকা ও বেরোনোর সময় যাতে সকলের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকে, সেটা নিশ্চিত করা উচিত’।

তিনি আরও বলেন,‘অন্য সময় কথা বলতে পারলে বোধহয় ভালো লাগতো কিন্তু এই সময়টা সারা পৃথিবীর জন্যই সত্যি খুব খারাপ সময়। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্যানিটাইজ়ার বা হাতশুদ্ধির বন্দোবস্ত রাখতে পারলে ভাল হয়। কয়েকটি দেশ এই ব্যবস্থা চালু করে সুফল পেয়েছে’। সেই সঙ্গে সংক্রমণ ঠেকাতে বাধ্যতামূলক ভাবে দূরত্ব বজায় রাখারও আবেদন করেন তিনি। বাজারে লক্ষ্মণরেখা আঁকার পাশাপাশি বিক্রেতার সামনে ইট রেখে মানুষকে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করানো উচিত বলে মনে করেন ওই অর্থনীতিবিদ।

তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আরও জানিয়েছেন, ‘যে-সব জায়গায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে বেশি করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। মানুষের ভয় ভাঙিয়ে রিপোর্টিং পরিকাঠামো তৈরি করা দরকার। প্রয়োজনে এই কাজে আশা-কর্মীদের ব্যবহার করা যেতে পারে। হাঁচি-কাশির তথ্য পেলে দ্রুত পরীক্ষা করানো দরকার। তা হলে সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই সেখানে পৌঁছে যাওয়া যাবে। হঠাৎ অনেক জায়গায় অনেকে রোগাক্রান্ত হলে সমস্যা বাড়বে’।পরামর্শ দেন অভিজিৎবাবু।

অভিজিৎবাবুর পরামর্শে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমরা চেষ্টা করব প্রত্যেকটা বাজারের সামনে একটা ব্যবস্থা করা যেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা যাবে। বাজার কমিটিগুলোকে বলবো এটার ব্যবস্থা করতে। আমরা একটা মোবাইল অ্যাপ করছি ফিভার সার্ভের জন্য। তিনি আরও জানান, “অনেকেই কেন্দ্রের তহবিলে হাজার হাজার কোটি টাকা দিচ্ছেন। এ রাজ্যে অত শিল্পপতি বা ধনী মানুষ নেই। যে যেমন পারছেন, সহযোগিতা করছেন। তা দিয়েই সব করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার”।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে  মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন, ‘‘বিকেল ৫টায় ভিডিয়ো-সম্মেলনের ব্যবস্থা হয়েছে। মাঝেমধ্যে আপনি যদি সেই সম্মেলনে থাকতে পারেন, ভাল হয়। আলোচনা করা যাবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার পরামর্শও নিতে পারব।’’

(Source: Anandabazar patrika)

Summary
Article Name
‘মানুষকে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করানো উচিত’; পরামর্শ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের
Description
প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের সঙ্গে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-ও। ওই দিন কনফারেন্সে তিনি সরকারকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
Author
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo