প্রধানমন্ত্রী ফের পাক তাস খেললেন CAA-নিয়ে:

প্রধানমন্ত্রী দোল ও সংগঠন এবং পাকিস্তান কে এক মেরুতে এনে ফেললেন। কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরকে মোদী পরামর্শ দেন যদি আন্দোলন করতেই হয় তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হন

0
PM Modi-The Policy Times
360 Views

শুন্য কপালে চন্দনের প্রলেপ। লাল অঙ্গবস্ত্র কাঁধে। কর্ণাটকের শ্রী সিদ্ধগঙ্গা মঠে। জমায়েত শুধু নাবালক সাধুদের। 

যারা সকলে সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতার জন্যে পথে, তাদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দোল ও সংগঠন এবং পাকিস্তান কে এক মেরুতে এনে ফেললেন। কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরকে নরেন্দ্র মোদী পরামর্শ দেন যদি আন্দোলন করতেই হয় তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হন। 

বিজেপী সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারের কাজনীয়ে যে বিরোধিতা করেছেন তাকেই রাষ্ট্রদ্রোহী বলেছেন বর্তমান সরকার। সিএএ ও এনআরসি – নিয়ে আসায় গোটাদেশ বিক্ষোভ নিয়ে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ সোহো ছিনেমা জগতের বহু উজ্জলিত মুখ। যেটা গোড়ারদিকে শুধুই মুসলিমদের বিব্ভ্রান্তির মধ্যে দেখতে চেয়েছিলো নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেটা সাফল্য মন্ডিত হলোনা কারণ ভারতের মানুষ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ। 

মোদী এমতবস্থায় দুটি কৌশল নিয়েছেন। এক-এই সমাজে বেঁচে থাকা সাধারণ হতভম্ব মানুষ থেকে শুরুকরে যারাই সিএএ এর বিরোধিতা করেছে তারা সবাই নাকি সংসদের বিরোধী, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধ গঙ্গা মাঠে ভরা নাবালক সাধুদের ভিড়ে বললেন। তিনি আরো বলেন কংগ্রেসের তৈরী ইকোসিস্টেম ভারতের সংসদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।যা শুনে কংগ্রেস পক্ষ বলছে এই আন্দোলন সংসদ নিয়ে নয় মোদির জনবিভাজন কুকাণ্ডের বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় কৌশলে মাননীয় মোদী জি সিএএ -এনআরসি-র বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীর মুখ ঘোরাতে বহুদূর হতে পাকিস্তান কে টেনে নিয়ে এসে বলছে যে, সেই দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরে নিপীড়ন হচ্ছে, আপনারা ওদের হয় মুখ খুলছেন না কেন ?? (শান্ত নিপীড়ন নিজের দেশেই ভালো লাগেনা বাবু, আপনি ভিন্ন দেশের ধর্মীয় নিপীড়ন কেন ভালো লাগাতে চাইছেন?) মোদির এই কৌশলকে বিরোধীরা বিজেপি সঙ্ঘের মেরুকরণের চেষ্টা বলেই দেখছেন। নরেন্দ্র মোদী নিজের দেশের সমস্যার কথা উল্লেখ না করে গত ৭০ বছরে পাকিস্তানের কুকীর্তিতে এখনো কথাবলছেন।  বলছেন যে আন্দোলন পাকের কুকীর্তির বিরুদ্ধে কেন করছেন না বিরোধীরা ? স্লোগান দিতে হলে পাকিস্তানে অত্যাচারিত সংখ্যালঘুর হয় দিন। ভারতীয় সন্মানীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্রমোদী আরো বলেন মিছিল করতে হলে পাকিস্তানে দলিত-পীড়িত- ষোষিতদের সমর্থনে মিছিল করুন। 

তুচ্ছনীয় মোদির এই ভাষণ শুনে বিরোধীরা স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন তো তুলবেই। যেখানে নিজের দেশের মানুষ উত্তেজিত অবস্থায়, সেখানে তিনি অন্য দেশের কাল্পনিক কাহিনী শোনাচ্ছে বিরোধীদের ক্ষিপ্ত কণ্ঠের ভাষা। মোদী শাসনে শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ, ব্যবসা প্রত্যেকটা ক্ষেত্র্রের সাথে দেশ সমস্যায় ভুখছে। এইসব নিয়ে কথা না বলে পাকিস্তানের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করে আরো সমস্যাদান করতে চাইছে। নিলোৎ পল বসু সিপিএমের সদস্য বললেন আপনি আচরি ধর্ম।অন্যদেশের আন্দোলনের জন্য   মোদী নিজে কেন প্রস্তুত নয়? মোদী জামানায় পুরো দেশ সংকটে আর প্রতিবেশী দেশের সমস্যা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের জ্ঞেয়ান দেয়া কেন পুরোদেশের কেউই শুনবেনা। 

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়র অধ্যাপক অশোক সোয়াইয়ের কটাক্ষ পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র ইজ়রায়েলের বিপক্ষে লড়াই করা যায়। আর মোদীর নতুন ভারতে আপনি শুধু মাত্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেন।কংগ্রেস বলছে সময়ে মাস বছর সব পাল্টালেও মোদির আন্তরিক চালাকি পাল্টায়নি। উনি কাউকে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে দেবেননা, সে শিক্ষাহীন হোক, সে অন্নদাতা চাষী হোক, সে তরুণ প্রজন্ম বা কোনো মহিলাই হোকনা কেন। যখন পাকিস্তান সম্পর্কে মোদী  কংগ্রেসের নরম সুর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন হটাৎ পাকিস্তানে গিয়ে নওয়াজ শরিফের পারিবারিক অনুষ্ঠানে মোদীর হাজির হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে পাশাপাশি উপহারের কোথাও তুলে ধরেছে কংগ্রেস।কংগ্রেসের রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, নিজের দলের মুখ্যমন্ত্রীই তো প্রকাশ্যে সিএএ-র বিরোধিতা করেছেন। ওঁকেও কি দেশদ্রোহী বলবেন মাননীয় মহাশয় ?

কর্নাটকে গিয়ে সিএএ-বিরোধিতাকে পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে বলেও দাগ দিলেন মোদী।মন্ত্রিসভায় তাঁর কর্মী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি কংগ্রেসকে আংগুল তুলে বলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত তারা ভারতে না এসে কোথায় যাবে? “ইটালিতে?’’ বিরোধীদের পাল্টা প্রতিউত্তর, কোনও শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।আপনারা বিজেপি বহুদিন আগেই ধর্মভিত্তিক সমস্হার সৃষ্টি করেছেন, আর এবার ভেদাভেদ করা নিয়েই আপত্তি উঠেছে দেশজুড়ে। 

প্রধানমন্ত্রী আজ বারবার পাকিস্তানে নিপীড়িত সংখ্যালঘুর কথা বললেও বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়ন নিয়ে কোনোরকম কোনো আলোকপাত করেননি।কিন্তু পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুন বেশি।মুসলিম ছাড়া বাকিদের নাগরিকত্ব দিতেই সিএএ-র আমদানি।ভারত সরকার মনে করছেন, বাংলাদেশের সন্মানীয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সরকার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করাতে পারে যার কারণেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তোলেননি। 

সিএএ আসার তিন সপ্তাহ গেলেও দেশ জুড়ে প্রতিবাদে ভাটা এখনো পুড়েনি।বিরোধীদের মনে করেন এটা নিয়ে সরকারের যে পরিমান মাথাব্যথা তা মোদীর বক্তব্যেই স্পষ্ট। মোদীর কর্নাটকে সফরে সিএএ-র বিরুদ্ধে চাষিরা ফসলের নেয্যমূল্যের দাবিতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিক্ষোভ রুখতে আগেই বেঙ্গালুরু, টুমকুর, শিবামোগ্গায় এলাকা সাফাইয়ের ধরপাকড় চালায় রাজ্যের বিজেপি সরকার।  

সিএএ নিয়ে প্রতিবাদের জন্য বিজেপি শাসিত জায়গা গুলি এবং একাধিক শহরেও ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বেশকিছুদিন ধরে। আজ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘‘২০১৯-এ ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৫৯ দিন প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র বারাণসীতে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। তার পরেও ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই বলার মতো তাঁর মুখ রয়েছে?’

Summary
Article Name
প্রধানমন্ত্রী ফের পাক তাস খেললেন সিএএ-নিয়ে:
Description
প্রধানমন্ত্রী দোল ও সংগঠন এবং পাকিস্তান কে এক মেরুতে এনে ফেললেন। কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরকে মোদী পরামর্শ দেন যদি আন্দোলন করতেই হয় তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হন
Author
Publisher Name
The Policy Times
Publisher Logo