পরিচর্যার অভাবে আজও অবহেলায় পরে রয়েছে রবিঠাকুরের প্রিয় কাছারি বাড়ি, নষ্ট হচ্ছে বহু মূল্যবান বই

১৮৪০ সালে নাটোরের জমিদার রানী ভবানীর কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদু প্রিন্স দ্বারকানাথ শাহজাদপুরের একটি বড়ো এস্টেট কিনেছিলেন।

0
166 Views

ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহজাদপুরের কাছারি বাড়ি। ১৮৪০ সালে নাটোরের জমিদার রানী ভবানীর কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদু প্রিন্স দ্বারকানাথ শাহজাদপুরের একটি বড়ো এস্টেট কিনেছিলেন। প্রিন্স দ্বারকানাথও ছিলেন কলকাতার জোড়াসাঁকোর জমিদার। ১৮৯০ সালের জানুয়ারি মাসে ২৮ বছর বয়সী তরুণ রবীন্দ্রনাথকে সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শাহজাদপুরে পাঠানো হয়েছিল। তিনি অবশ্য সেখানে থেকে লেখালেখি করতে বেশ পছন্দ করতেন। তিনি প্রজাদরদীও ছিলেন এমনকি প্রজাদের কল্যাণে তিনি একটি গ্রামীণ ব্যাংক ও নির্মাণ করেন।

বর্তমানে, কাছারি বাড়িতে এখন তাঁর নামে একটি স্মৃতি প্রদর্শনী কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও একটি সুন্দর বাগান ও অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি এখন পর্যটকদের এক বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান। এই স্মৃতি প্রদর্শনী কেন্দ্র সম্বন্ধে কাছারি বাড়ির প্রহরী মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন- এখানে প্রায় ৩৩১ টি নিদর্শন ও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।এছাড়াও, কবির ব্যবহৃত খাট, চেয়ার, টেবিল, আয়না, পিয়ানো, পালকি সহ প্রায় ১৪৮ টি নিদর্শন ,২০ টি বিরল চিত্র ও প্রায় ৩০০০ টি মূল্যবান বই রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক জিনিসই চুরি হয়ে গেছে।

Read more: https://thepolicytimes.com/loh-pranam-some-real-information-came-up-on-the-159th-birth-anniversary-of-the-poet-which-is-still-unknown/

কর্মচারীদের অযত্নের কারণে অনেক মূল্যবান বই, আলোকচিত্র, আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।  ভেঙে গেছে অনেক জানলা দরজা। কবি যে করতোয়া নদীর খাল দিয়ে নৌকায় চেপে কাছারি বাড়িতে আসতেন সেই খালটিও বর্তমানে বেদখল হয়ে গেছে। কাছারি বাড়ির চত্বরে কোটি টাকা ব্যয় করে অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হলেও অনুমতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির জন্য সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হয় না বললেই চলে। কাছারি বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে পৌর কর্তৃপক্ষ কাপড়ের হাট বসিয়ে অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে এর সৌন্দর্য। হাটে শৌচাগার না থাকার কারণে যথেষ্ট নোংরা হয় এই চত্বরটি।

সাংবাদিক এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ে গবেষক হাবিবুর রহমান স্বপন এর বক্তব্য অনুযায়ী- এই কাছারি বাড়িটি বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল স্ট্রাকচার হিসেবে সংরক্ষিত হলেও বেশ কয়েকটি অংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি এটি পরিদর্শন করার সময় এই পরিত্যক্ত অংশে ফাটল দেখতে পান এবং মেরামতের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে প্রস্তাব দেন। এরপর অবশ্য প্রযুক্তিগত দল ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করার জন্য আসেন। এ বিষয়ে কাছারি বাড়ির প্রহরী মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন- “বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী আমরা অবশ্যই এটি মেরামত করব।”

রবীন্দ্রনাথ এখানে থেকে বহু কবিতা, গান, ছোট গল্প, প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এদের মধ্যে বিসর্জন, ছিন্ন পত্র, পোস্টমাস্টার, ছুটি, ক্ষুধিত পাষাণ, ইছামতি নদী, পঞ্চভূতের ডাইরী, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, সমাপ্তি, অতিথি, ভরা-ভাদর, লজ্জা, ব্যর্থ-যৌবন, মৃত্যু-মাধুরী, স্মৃতি, তৃণ, প্রেয়সী, কুমার সম্ভব গান ইত্যাদি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

Summary
Article Name
পরিচর্যার অভাবে আজও অবহেলায় পরে রয়েছে রবিঠাকুরের প্রিয় কাছারি বাড়ি, নষ্ট হচ্ছে বহু মূল্যবান বই
Description
১৮৪০ সালে নাটোরের জমিদার রানী ভবানীর কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদু প্রিন্স দ্বারকানাথ শাহজাদপুরের একটি বড়ো এস্টেট কিনেছিলেন।
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here