প্রবল গতিতে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে সুপার সাইক্লোন আমফান,উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সর্তকতা জারি

আমফান ঘূর্ণিঝরটির তাণ্ডবলীলা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে তার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়বে ঝড় বৃষ্টির দাপট।তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর জেলায় সব থেকে বেশি প্রভাব পড়বে।

0

সুপার সাইক্লোন আমফান প্রবল গতিতে বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে বলে আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গণেশ কুমার দাস এর মতে আজ অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রবল ঝড় ও ভারী বর্ষণ হবে।তবে সুন্দরবন ও তার আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে এই সুপার সাইক্লোনের প্রভাব থাকবে সবথেকে বেশি। তাই বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

আমফান ঘূর্ণিঝরটির তাণ্ডবলীলা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে তার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়বে ঝড় বৃষ্টির দাপট।তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর জেলায় সব থেকে বেশি প্রভাব পড়বে। এখানে সকালে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া থাকলেও  বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটারে ঝড় বইতে পারে। উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে বঙ্গোপসাগর লাগোয়া সুন্দরবন এবং কলকাতাতে এর প্রভাব যথেষ্ট বেশি থাকবে। বুধবার বিকেল থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে।

বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। দীঘা ও পুরী সমুদ্রের জলচ্ছাস বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় ইতিমধ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।  উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে  সর্তকতা জারি করা হচ্ছে। ভুবনেশ্বর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হাবিবুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী- ওড়িশার পারাদ্বীপ এখন প্রতি ঘন্টায় ১০৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে আয়লার চেয়েও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে- এই সতর্কবার্তাকে মাথায় রেখেই অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। হুগলি জেলায় ৪ জন অতিরিক্ত জেলা শাসককে নোডাল অফিসার হিসেবে কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে। ১৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, এছাড়াও মাইক প্রচারের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। আরামবাগ মহকুমায় বিশেষ  বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে কলকাতায় ১৪৪ টি ওয়ার্ডের নিচু এলাকার ও বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের পুরসভার রিলিফ  সেন্টারে চলে আসার জন্য বুধবার সকাল থেকেই মাইকিং করা হয়েছে। বিধান নগর পুরসভার উদ্যোগে আগামী ২২শে মে সকাল টা পর্যন্ত বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে, এছাড়াও কলকাতার রাজারহাট, সল্টলেক ইত্যাদি জায়গায় কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। বাসিন্দাদের  সুবিধার্থে ২৩৫৮১১৫৩ নম্বরটিতে পরিষেবা পাওয়া যাবে।

এদিকে কলকাতা বিমান বন্দরে আমফানের  জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে “বন্দে ভারত” মিশন এর জন্য যেসব বিমান চলা শুরু হয়েছিল সেগুলি আগামীকাল ভোর টা পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ করবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার জন্য স্পেশাল কন্ট্রোল রুম ছাড়াও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রপ প্রস্তুত করা হয়েছে। ঝড় পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য ডি এম জি টিম ও ২ টি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রত্যেক ডিভিশনে রাখা হয়েছে। তবে, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সতর্কতার পাশাপাশি করোনা নিয়েও জনগণকে সচেতন থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

Summary
Article Name
প্রবল গতিতে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে সুপার সাইক্লোন আমফান,উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সর্তকতা জারি
Description
আমফান ঘূর্ণিঝরটির তাণ্ডবলীলা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে তার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়বে ঝড় বৃষ্টির দাপট।তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর জেলায় সব থেকে বেশি প্রভাব পড়বে।
Publisher Name
THE POLICY TIMES
Publisher Logo