আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই হচ্ছে তৃণমূলের প্রধান কাজ

নির্বাচন মানে যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান।আর সেটা যদি পঞ্চায়েত বা পৌরনির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে অনেক কিছু নির্ভর করে উন্নয়ন, পরিষেবা, সমস্যা ও মনোনীত প্রার্থী তাই এবার পৌরভোট নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে প্রার্থী নির্বাচনই অগ্নিপরীক্ষা।তৃণমূল সহ সমগ্র রাজ্য বাসি এখন প্রশান্ত কিশোরের শরণাপন্ন।

0
The main job of the trinamul congress is to select candidates in the municipal elections

নির্বাচন মানে যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান।আর সেটা যদি পঞ্চায়েত বা পৌরনির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে অনেক কিছু নির্ভর করে উন্নয়ন, পরিষেবা, সমস্যা ও মনোনীত প্রার্থী তাই এবার পৌরভোট নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে প্রার্থী নির্বাচনই অগ্নিপরীক্ষা।তৃণমূল সহ সমগ্র রাজ্য বাসি এখন প্রশান্ত কিশোরের শরণাপন্ন।

যে কোনও নির্বাচনেই মনোনীত প্রার্থী একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় দাঁড়ায় । আর সেই ভোট যদি হয় পঞ্চায়েত বা পৌরসভার মতো স্তরের, তখন ভোটারদের কাছে মনোনীত প্রার্থীর মুখই প্রাধান্যতা পায়। তাই পুরভোটে মানুষের পছন্দের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচন করাটাই যে কোনও দলের আসল কাজ হয়ে দাঁড়ায়। জনগণের সামনে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে প্রার্থী করলে লড়াইটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু, প্রার্থী বাছাইয়ে দাদাগিরি , গোষ্ঠীবাজি প্রাধান্য পেলেই ঘটে বিপদ। অপছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি করার জন্য দরকার হয় জোরজবরদস্তির, তখনই হয় মারামারি, খুনোখুনি

আরও পড়ুন: NPR নিয়ে কংগ্রেসের বৈঠক আজ, নতুন রণনীতির পরিকল্পনা:

তৃণমূল স্তরের ভোটে মুখ যে একটা বড় ফ্যাক্টর তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে উন্নয়ন নজর কাড়লেও বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল, কারণ ছিল প্রার্থী বাছাই এর জেরে দল কোন্দল , গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব , মারামারি ও প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয় যায় আর সেই কারণেই গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভরাডুবি। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিপক্ষ দলের তেমন সাংগঠনিক ঐক্কবদ্ধতা না থাকা সত্ত্বেও শাসক দলের এই ভরাডুবি।

বিচার বিশ্লেষণ করে এই পাওয়া যায় যে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জেরে দলে গোষ্ঠীকলহ, মারামারি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই শোনা যায় আর সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণ শাসক দলের থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ক্ষমতা শুধু অতীতকেই ভুলিয়ে দেয় না, ভবিষ্যৎ উপলব্ধির ক্ষমতাও কেড়ে নেয় অনেকসময়। সেই কারণেই আস্ফালনের মিটার তখন চড় চড় করে বাড়ে। পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটে শাসক দলের বিপর্যয় কারণ অনুসন্ধানে উঠেছে এসেছে ক্ষমতার আস্ফালনের বিষয়টি। তাই অনেকেই বলছেন, পুরভোটে আগাম সতর্কতা দরকার। ক্ষোভ একবার জনসমক্ষে এলে তা মেরামত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন:  JDU এর পদক্ষেপ; বহিষ্কৃত হলেন প্রশান্ত কিশোর এবং পবন…

এখন দেখার বিষয়, তৃণমূল নেতৃত্ব মানুষের অপছন্দের মুখগুলিকে ছেঁটে ফেলতে পারে কিনা, পৌরনির্বাচনে তৃণমূলের সেটাই আসল পরীক্ষা।টিকিট না পেয়ে কোনও কাউন্সিলার যদি বিরোধী শিবিরে গেলেও দু’চারজন ছাড়া বিশেষ সুবিধা করতে পারবেন না। কারণ তৃণমূলটা চলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। উল্টে প্রার্থী বাছাই ঠিকঠাক হলে পুরভোটে তৃণমূলের জিত নিশ্চিত। কারণ স্রেফ রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলোর নিরিখে ভোট হলে তৃণমূলকে আটকানো মুশকিল ।উন্নয়ন নিরিখে ভোট হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে লড়াই করা মুশকিল ।

হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি প্রভৃতি রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবি হলেও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই তৃণমূলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, তারা চাইলেই স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থী দিতে পারবে। ইচ্ছা করলেই তৃণমূল এবং সিপিএম থেকে আসা অপছন্দের মুখগুলি বাদ দিতে পারবে। বাদ দিলেও বিজেপির ক্ষতি করার ক্ষমতা তাঁদের নেই।


 

Summary
Article Name
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই হচ্ছে তৃণমূলের প্রধান কাজ
Description
নির্বাচন মানে যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান।আর সেটা যদি পঞ্চায়েত বা পৌরনির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে অনেক কিছু নির্ভর করে উন্নয়ন, পরিষেবা, সমস্যা ও মনোনীত প্রার্থী তাই এবার পৌরভোট নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে প্রার্থী নির্বাচনই অগ্নিপরীক্ষা।তৃণমূল সহ সমগ্র রাজ্য বাসি এখন প্রশান্ত কিশোরের শরণাপন্ন।